এয়ার কুলারের ঠান্ডা হাওয়ায় লুকিয়ে বিপদ! অ্যাজমা ও সিওপিডি রোগীদের জন্য সতর্কবার্তা চিকিৎসকের

গনগনে দুপুরে ঘরে একটু স্বস্তির খোঁজে আমরা অনেকেই এয়ার কুলারের ওপর ভরসা করি। বিশেষ করে যাঁদের এসি ব্যবহারের সামর্থ্য নেই, তাঁদের কাছে এটিই প্রধান ভরসা। কিন্তু এই স্বস্তির হাওয়া যে আপনার ফুসফুসের জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, তা অধিকাংশেরই অজানা। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডঃ সৌম্য গায়েন এয়ার কুলারের ব্যবহার নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

কেন ক্ষতিকর এয়ার কুলার?
ডঃ সৌম্য গায়েনের মতে, এয়ার কুলার ঘর ঠান্ডা করার জন্য জল ব্যবহার করে, যা ঘরের বাতাসে জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতার পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার ঝুঁকিগুলি তিনি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন:

নাসিকাপথ ও সাইনাসের ক্ষতি: কুলার থেকে নির্গত অত্যন্ত আর্দ্র ও ঠান্ডা জলীয় হাওয়া সরাসরি আমাদের নাসিকাপথ এবং সাইনাসগুলোকে অতিরিক্ত ঠান্ডা করে দেয়।

জীবাণুর বাহক: এই হাওয়ার মধ্যে সূক্ষ্ম জলকণা ভেসে বেড়ায়, যা বাতাসে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার জন্য ‘বাহন’ বা ভেহিকেল হিসেবে কাজ করে। ফলে এই ঠান্ডা হাওয়ার মাধ্যমে খুব সহজেই ফুসফুসে সংক্রমণ বা ইনফেকশনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

যাঁদের জন্য বিশেষ বিপদ:
বিশেষ করে যাঁদের শ্বাসকষ্টের পুরনো ধাত বা অ্যাজমা ও সিওপিডি (COPD)-র মতো ক্রনিক ফুসফুসের রোগ রয়েছে, তাঁদের জন্য এই এয়ার কুলার বিষের মতো কাজ করতে পারে। ডঃ গায়েনের মতে, একদিকে ঠান্ডা হাওয়া শ্বাসনালীকে সংকুচিত করে দেয়, অন্যদিকে বাতাসের জীবাণু ফুসফুসের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে ফেলে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
সাময়িক আরামের চক্করে পড়ে সিওপিডি বা অ্যালার্জির মতো ক্রনিক রোগীরা যেন এয়ার কুলারকে ঘরের নিত্যসঙ্গী না করে ফেলেন। ডঃ সৌম্য গায়েনের স্পষ্ট পরামর্শ, ফুসফুসকে সুরক্ষিত রাখতে হলে এই আর্দ্র ও আচ্ছন্ন হাওয়া থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। যদি খুব প্রয়োজনে কুলার ব্যবহার করতেই হয়, তবে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং নিয়মিত যন্ত্রটি পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দিয়েছেন চিকিৎসক।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এই পরামর্শ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, গরমের আরাম যেন দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।