ট্রাম্পের প্রস্তাবে ‘না’ পাকিস্তানের! ইজরায়েল ইস্যুতে অবস্থান স্পষ্ট করলেন খাজা আসিফ

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ‘অ্যাব্রাহাম চুক্তি’ (Abraham Accords) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। এই চুক্তিতে পাকিস্তানকে শামিল করতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রবল আগ্রহ থাকলেও, তাতে আপাতত বড়সড় ধাক্কা দিলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ। ইজরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া পাকিস্তানের ‘মৌলিক আদর্শের পরিপন্থী’—এই যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব কার্যত খারিজ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ।

ট্রাম্পের প্রত্যাশা ও পাকিস্তানের অবস্থান
আমেরিকার মধ্যস্থতায় ২০২০ সালে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাব্রাহাম চুক্তি’র মাধ্যমে ইজরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলির কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়। ট্রাম্প চাইছিলেন, পাকিস্তান এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে বর্তমান সখ্যতার সুযোগ নিয়ে ইসলামাবাদকেও এই চুক্তির আওতায় আনতে। কিন্তু পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সাফ কথা, ১৯৬৭ সালের মানচিত্র অনুযায়ী প্যালেস্তাইন ও জেরুসালেমকে স্বীকৃতি না দেওয়া পর্যন্ত ইজরায়েলের অস্তিত্ব মেনে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এমনকি পাকিস্তানের পাসপোর্টে ইজরায়েলে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা যে চিরস্থায়ী, তাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

কেন এই কঠোর অবস্থান?
সমসাময়িক ভূ-রাজনীতিতে ইজরায়েলকে ‘মানবতার অভিশাপ’ বলে অভিহিত করেছেন খাজা আসিফ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, যাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা পাকিস্তানের পক্ষে অসম্ভব। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের পিছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে:

অভ্যন্তরীণ রাজনীতি: ট্রাম্পের প্রস্তাব গ্রহণ করলে দেশের ভেতরে সরকার চরম বিরোধিতার মুখে পড়বে।

মুসলিম বিশ্বে ভাবমূর্তি: যে মুসলিম দেশগুলি থেকে পাকিস্তান বিপুল আর্থিক সহায়তা পায়, তাদের বিরাগভাজন হওয়ার ঝুঁকি নিতে চায় না শেহবাজ শরিফ সরকার।

অস্বস্তিতে ইসলামাবাদ?
ট্রাম্পের আমন্ত্রণে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের হোয়াইট হাউস সফর এবং আমেরিকায় বিপুল বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নতুন মোড় নিয়েছিল। এমতাবস্থায় ট্রাম্পের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা ইসলামাবাদের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে আদর্শিক অবস্থানের প্রশ্নে পাকিস্তান আপাতত তাদের পুরনো নীতিতেই অটল থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।