অষ্টম বেতন কমিশন! সব দাবি কি মানবে কেন্দ্র? পর্দাফাঁস প্রবীণ নেতার মন্তব্যে!

অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে লাখ লাখ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের মধ্যে জল্পনা তুঙ্গে। তবে ইউনিয়নগুলির দাবি এবং সাউথ ব্লকের বাস্তব চিত্র—এই দুইয়ের মধ্যে যে বিস্তর ফারাক রয়েছে, তা এখন স্পষ্ট। সব দাবি পূরণ না-ও হতে পারে, এমন ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন সূত্রের খবর থেকে।

ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে কেন অনিশ্চয়তা?
কর্মচারী সংগঠনগুলোর অন্যতম মূল দাবি ছিল ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। তবে প্রবীণ ইউনিয়ন প্রতিনিধিদের ঘরোয়া আলোচনা থেকেই জানা যাচ্ছে, এই দাবি পূরণ হওয়া কার্যত অসম্ভব। এর পেছনে প্রধান কারণ—কেন্দ্রীয় কোষাগারের ওপর বিপুল চাপ। কেন্দ্রীয় বেতন বাড়লে রাজ্যগুলিকেও একই পথে হাঁটতে হয়, যা দেশের সামগ্রিক আর্থিক কাঠামোয় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সরকার ৩.৮৩-র বদলে একটি ‘মধ্যপন্থা’ বা আপোসমূলক ফর্মুলা বেছে নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘ফ্যামিলি ইউনিট’ নিয়ে আশার আলো
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে সরকার রক্ষণশীল হলেও, ‘ফ্যামিলি ইউনিট’ ৩ থেকে বাড়িয়ে ৫ করার দাবিতে ইউনিয়নগুলো অনড়। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কেবল স্ত্রী ও সন্তান নয়, বরং বয়স্ক বাবা-মায়ের দায়িত্ব ও চিকিৎসা খরচ মেটানো যে কতটা কঠিন, তা সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে পারে। এই দাবিটি পূরণের সম্ভাবনা আপাতত বেশি বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওপিএস (OPS) ও বর্তমান পরিস্থিতি
পুরনো পেনশন স্কিম (OPS) ফেরানোর দাবি নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলন চললেও, তা পুরোপুরি কার্যকর করা এখন প্রায় অসম্ভব। কেন?

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এনপিএস (NPS) ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মচারীদের বিপুল অর্থ শেয়ার বাজার ও আর্থিক মার্কেটে লগ্নি রয়েছে।

এই বিশাল সিস্টেম রাতারাতি ভেঙে ফেলা প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত জটিল।

তাই এখন সম্পূর্ণ ওপিএস-এর দাবিতে অনড় না থেকে ইউনিয়নগুলো ‘ওপিএস-এর মতো সুরক্ষাকবচ’—যেমন গ্যারান্টিড পেনশন ও ডিএ-লিঙ্কড পেনশন সুরক্ষার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

পরবর্তী বড় পদক্ষেপ: ২২ ও ২৩ জুন
অষ্টম বেতন কমিশনের পরবর্তী বড় আপডেট আসতে চলেছে আগামী মাসেই। জানা গেছে, আগামী ২২ ও ২৩ জুন লখনউতে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও কর্মী ইউনিয়নগুলির সঙ্গে এক মেগা বৈঠকে বসতে চলেছে বেতন কমিশন। এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে অনেক দাবিদাওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা—বেতন ও পেনশনে মাত্রাতিরিক্ত খরচ বাড়লে দেশের বাজারে মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) চাপ বাড়তে পারে। এখন দেখার, লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর প্রত্যাশা ও দেশের অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে মোদী সরকার কোন পথ বেছে নেয়।