আবারও জ্বালানির জ্বালা! এক ধাক্কায় পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া, নাজেহাল আমজনতা

মে মাসের মাঝামাঝি থেকে দেশের জ্বালানির বাজারে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিল, তা যেন থামার নামই নিচ্ছে না। গত ১১ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি মোট চারবার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার দরপতনের অজুহাতে এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা সরাসরি চাপছে সাধারণ মানুষের কাঁধে।

কলকাতায় বর্তমান দাম:
সর্বশেষ মূল্যবৃদ্ধির ফলে সোমবার থেকে কলকাতায় পেট্রোল ও ডিজেলের নয়া দর কার্যকর হয়েছে:

পেট্রোল: লিটার প্রতি ১১৩ টাকা ৫১ পয়সা (সোমবার ২ টাকা ৮৭ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে)।

ডিজেল: লিটার প্রতি ৯৯ টাকা ৮২ পয়সা (সোমবার ২ টাকা ৮০ পয়সা বৃদ্ধি পেয়েছে)।

মে মাসে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির পরিসংখ্যান:
তেল সংস্থাগুলি গত ১৫ মে থেকে মূল্য সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু করে। এই ১১ দিনের ব্যবধানে মোট জ্বালানির দাম বেড়েছে প্রায় ৭.৫০ টাকা পর্যন্ত।

১৫ মে: ৩ টাকা বৃদ্ধি।

১৯ মে: প্রায় ৯০ পয়সা বৃদ্ধি।

২৩ মে: প্রায় ৮৭-৯১ পয়সা বৃদ্ধি।

২৫ মে: পেট্রোলে ২ টাকা ৬১ পয়সা এবং ডিজেলে ২ টাকা ৭১ পয়সা বৃদ্ধি।

মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে কারণ:
তেল সংস্থাগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম লাগাতার ঊর্ধ্বমুখী। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষত পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় এই প্রভাব পড়ছে। পাশাপাশি, ডলারের তুলনায় টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানি খরচ অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা খুচরো বাজারে দাম বাড়ানোর অন্যতম কারণ।

নিত্যপণ্যের বাজারের ওপর প্রভাব:
বিশেষজ্ঞদের মতে, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব কেবল ব্যক্তিগত যাতায়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় শাকসবজি থেকে শুরু করে চাল, ডাল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও লাফিয়ে বাড়বে। ফলে মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়ার পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাও প্রবল হচ্ছে।

আগামী দিনে এই মূল্যবৃদ্ধি বজায় থাকে কি না, সেটাই এখন বড় চিন্তার বিষয়। নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতা—সবারই এখন একটাই প্রশ্ন, এই দৌড় থামবে কবে?