একদিকে মিসাইল, অন্যদিকে আলোচনা! মধ্যপ্রাচ্যের নতুন কূটনৈতিক মোড়ে ট্রাম্পের মাস্টারস্ট্রোক?

একদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার তোড়জোড়, অন্যদিকে দক্ষিণ ইরানে আমেরিকার সামরিক অভিযান—এই দুই বিপরীতমুখী ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সোমবার মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানি বাহিনীর হুমকি মোকাবিলায় তারা দক্ষিণ ইরানে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালিয়েছে।

হামলা ও সেনাবাহিনীর অবস্থান:
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং মাইন স্থাপনকারী নৌযানগুলো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, শান্তি আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে চলছে। ওয়াশিংটনের দাবি, চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও নিজেদের সৈন্যদের সুরক্ষার স্বার্থেই এই ‘সংযমপূর্ণ’ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্পের নতুন ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ তত্ত্ব:
এই উত্তেজনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তিতে একটি শর্ত জুড়ে দিয়ে নতুন কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে নিয়ে চুক্তির শর্ত হিসেবে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডন-সহ আরও কয়েকটি দেশকে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ সই করতে হবে। তাঁর কথায়, “এই জটিল ধাঁধার সমাধানে এটি বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ইজরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ প্রবর্তিত হয়েছিল। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো ইজরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের দীর্ঘদিনের অটল অবস্থানের কারণে ট্রাম্পের এই প্রস্তাব কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েছে।

কূটনৈতিক মহলে সংশয়:
ট্রাম্পের এই প্রস্তাব রিপাবলিকান পার্টির একাংশের সমালোচনার মুখেও পড়েছে, যারা ইরানের বিরুদ্ধে বরাবরই কঠোর অবস্থানের পক্ষপাতী। পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খান এই পরিস্থিতিকে ‘কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা’ হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করেন, ট্রাম্প অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে দ্রুত একটি সুবিধাজনক চুক্তি সম্পাদনের চেষ্টা করছেন। যদিও ইসলামাবাদ-ভিত্তিক বিশ্লেষক সৈয়দ মহম্মদ আলির মতে, এই শর্ত সত্ত্বেও ইজরায়েলের প্রতি পাকিস্তানের অবস্থানের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

চুক্তির ভবিষ্যৎ:
ইরানের সঙ্গে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা কবে নাগাদ সম্ভব হবে, তা এখনও অস্পষ্ট। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সব শর্ত মেনে একটি বৃহত্তর সমঝোতায় পৌঁছানো গেলে শেষ পর্যন্ত ইরানকেও এই চুক্তির আওতায় আনা সম্ভব।

২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও বাহরিনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ ক্রমশ সুদান, মরক্কো ও কাজাখস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। এখন ট্রাম্পের এই নতুন কূটনৈতিক চাল মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়ায় কোনো ইতিবাচক সমাধান আনবে, নাকি সংকট আরও ঘনীভূত করবে—তা এখন সময়ের অপেক্ষা।