আপনার প্রিয় কুকুরটি কি নীরবে ভুগছে আর্থ্রাইটিসে? অবহেলা করছেন না তো?

দিনের শেষে বাড়ির পোষ্যটির লেজ নাড়ানো আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসাই আমাদের সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। সন্তানের মতোই আমরা তাদের আগলে রাখি। কিন্তু প্রিয় বন্ধুটি যখন বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগের মতো ছুটোছুটি করে না, তখন আমরা তাকে ‘বয়স হয়েছে’ ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই আপাত সাধারণ ক্লান্তি আসলে আর্থ্রাইটিসের (Arthritis) মতো যন্ত্রণাদায়ক অসুখের লক্ষণ হতে পারে?
পোষ্যরা নিজেদের যন্ত্রণার কথা ভাষায় বলতে পারে না, তাই তাদের সুস্থ রাখার দায়িত্ব আমাদেরই। এই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় পশু চিকিৎসক ডা: আমির আনোয়ারি (যিনি ‘আমির দ্য ভেট’ নামেই পরিচিত) দিয়েছেন কিছু জরুরি পরামর্শ।
জয়েন্ট ভালো রাখতে যা করবেন:
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত আদর করে খাবার খাওয়ানো পোষ্যের জন্য বিপজ্জনক। ডা: আনোয়ারির মতে, কুকুরের ওজন বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে জয়েন্টে। অতিরিক্ত ওজনের ফলে হাড়ের ঘর্ষণ বেড়ে আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
নিয়মিত ব্যায়াম: ওদের ফিট রাখতে রোজ নিয়ম করে অল্প হাঁটাহাঁটি বা সাঁতার কাটানো প্রয়োজন। তবে খেয়াল রাখবেন, তা যেন অতিরিক্ত ধকলের কারণ না হয়। ‘লো-ইমপ্যাক্ট’ শরীরচর্চা জয়েন্টকে সচল রাখে।
বাড়ির পরিবেশ বদলান: আধুনিক ফ্ল্যাটের পিচ্ছিল টাইলস পোষ্যের জয়েন্টের জন্য বড় শত্রু। পা পিছলে মারাত্মক আঘাত লাগতে পারে। তাই কুকুর যেখানে বেশি ঘোরাফেরা করে, সেখানে কার্পেট বিছিয়ে দিন। এতে ওদের হাঁটায় সঠিক ‘গ্রিপ’ পাওয়া যায়।
সাপ্লিমেন্টে জোর দিন: রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ অনেক ভালো। আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ প্রকাশের আগে থেকেই পশু চিকিৎসকের পরামর্শে ওমেগা-৩ (Omega-3) সাপ্লিমেন্ট এবং জয়েন্ট সাপোর্ট ফর্মুলা শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ।
সম্পাদকীয় বার্তা: কুকুরের ৫ বছর বয়সের পর থেকেই বার্ধক্যের প্রাথমিক লক্ষণগুলো নজরে রাখা জরুরি। আপনার সামান্য একটু নজরদারি এবং সঠিক যত্নই পারে আপনার চারপেয়ে বন্ধুটির বার্ধক্যকে যন্ত্রণামুক্ত ও আনন্দময় করে তুলতে। আজ থেকেই কি তবে শুরু করবেন প্রিয় পোষ্যের সঠিক পরিচর্যা?