পুর প্রশাসনে চূড়ান্ত অস্থিরতা! মেয়র বনাম কমিশনারের দ্বন্দ্বে হঠাৎ সরানো হলো পুর সচিবকে

রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের আবহে এবার কলকাতা কর্পোরেশনের অন্দরে তৈরি হলো প্রবল প্রশাসনিক অস্থিরতা। মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্বের জেরে কার্যত অচল হওয়ার জোগাড় কলকাতা পুরসভার। এর মধ্যেই আকস্মিক সিদ্ধান্তে পুর সচিব স্বপন কুমার কুণ্ডুকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় কিশোর কুমার গুপ্তকে নিয়োগ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে শুক্রবারের নির্ধারিত মাসিক অধিবেশন।

অধিবেশন বাতিলের নেপথ্যে লড়াই:
পুরসভা সূত্রে খবর, মেয়র পারিষদ বৈঠক ডাকা নিয়ে কমিশনার ও সচিবের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। কমিশনার জানতে চান, তাঁকে না জানিয়ে কেন বৈঠক ডাকা হলো। নিয়ম মেনে সব করা হয়েছে বলে সচিব পাল্টা যুক্তি দিলেও বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সচিব নিজেই অধিবেশন বাতিলের নির্দেশিকা জারি করেন। এরপরই তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের খবরে প্রশাসনিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। এ বিষয়ে পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অধিবেশন বাতিল নিয়ে তাঁকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে, যা সাংবিধানিক সংকট তৈরি করতে পারে। তিনি বিষয়টি নিয়ে পুরমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

অভিষেকের বাড়িতে নোটিশের প্রভাব:
প্রশাসনিক এই সংঘাতের মূলে রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে পুরসভার পাঠানো নোটিশ এবং তিলজলায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙার ঘটনা। দলের একাংশের মতে, পুর কমিশনারের এই ‘অতিসক্রিয়তা’ শাসকদলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। সূত্রের দাবি, শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার জন্য মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে চাপ দিয়েছিলেন। যদিও মেয়র সরাসরি সেই পথে হাঁটতে নারাজ। তাঁর মতে, আইনি লড়াইয়ে গেলে পুর বোর্ডের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

কাউন্সিলরদের ডেকে বৈঠক:
পরিস্থিতি সামাল দিতে শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেস তাদের সব কাউন্সিলরকে পুরসভায় তলব করেছে। ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার বিষয়টি কাউন্সিলরদের মাধ্যমে করানোর ছক কষছে শাসকদল বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে কতজন কাউন্সিলর দলের পাশে দাঁড়ান এবং মেয়র ও কমিশনারের এই শীতল যুদ্ধ কোথায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।