“ঝুঁকেগা নেহি” থেকে সোজা ওয়াকওভার! ফলতায় শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ জাহাঙ্গির, সাসপেন্ডের দাবিতে মমতার জরুরি বৈঠক!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের ঠিক দু’দিন আগে রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড়! ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে আচমকাই লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। শুধু ভোটের ময়দান ছাড়াই নয়, সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।
তৃণমূল প্রার্থীর এমন আকস্মিক ‘আত্মসমর্পণ’ কোনোভাবেই ভালো চোখে দেখছে না ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। মঙ্গলবারই নবনির্বাচিত দলীয় বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে এক জরুরি বৈঠকে বসেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে ফলতার প্রার্থীকে দল থেকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার দাবি তুলে ক্ষোভ উগরে দেন বিধায়কদের একাংশ।
মমতার বৈঠক ও বিধায়কদের তীব্র ক্ষোভ
দলীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার বিকালের এই জরুরি বৈঠকে ফলতার প্রসঙ্গ উঠতেই চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আক্ষেপের সুরে বলেন, “ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে জাহাঙ্গিরের অন্তত একবার কথা বলা উচিত ছিল।” তৃণমূল নেত্রীর এই মন্তব্যের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দলের বিধায়কেরা। ভোটের মুখে প্রার্থীর এমন পদক্ষেপকে তাঁরা ‘চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা’ ও দলবিরোধী কাজ বলে অভিহিত করেন। জাহাঙ্গির খানকে দল থেকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার দাবি তোলা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ক্ষোভের তির পরোক্ষভাবে দলের অন্যান্য স্তরের দিকেও।
‘ঝুঁকেগা নেহি’ থেকে সোজা ওয়াকওভার: পুষ্পার আত্মসমর্পণ!
“ব্যাঘ্র পুনর্মূষিক ভব”: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের ক্ষেত্রে এই প্রবাদটি এখন অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মূল পর্বের আগে এই জাহাঙ্গিরের মুখেই শোনা গিয়েছিল দক্ষিণী ছবি ‘পুষ্পা’-র সেই বিখ্যাত সংলাপ—“ঝুঁকেগা নেহি”। তিনি প্রকাশ্য জনসভা থেকে বিজেপি, নির্বাচন কমিশন এমনকি আইপিএস অজয় পাল শর্মাকেও কড়া হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু ২১ মে ফলতার ২৮৫টি বুথে সম্পূর্ণ পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে সেই ‘পুষ্পা’ই কার্যত হাঁটু গেঁড়ে বসে পড়লেন। শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষিত বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের প্রশংসা করে তিনি রণে ভঙ্গ দিলেন। ফলে ফলতায় বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডাকে কার্যত ওয়াকওভার দিয়ে দিল তৃণমূল।
বিজেপির আসন সংখ্যা কি এবার ২০৮?
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, স্ক্রুটিনি ও মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে যাওয়ায় ইভিএম (EVM) মেশিনে জাহাঙ্গির খানের নাম ও প্রতীক একই থাকবে। তবে তৃণমূল প্রার্থীর এই পিছুটানের পর রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গিয়েছে।
রাজ্যের ২৯৩টি আসনের ঘোষিত ফলাফলে ইতিমধ্যেই ২০৭টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। এবার ফলতা আসনটি পকেটে পুরে শাসক দল বিজেপির আসন সংখ্যা ২০৮ হওয়া কার্যত সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, এই ঘটনার পর কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট তৃণমূলের ভোটারদের নিজেদের দিকে টানার জন্য মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছে।