২০০ কোটির মেগা প্রকল্প! নিউ কোচবিহারে অবশেষে শুরু হচ্ছে ‘সাই’ সেন্টারের কাজ, বড় পদক্ষেপ নিশীথ প্রামাণিকের!

উত্তরবঙ্গের ক্রীড়া পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটতে চলেছে। নিউ কোচবিহার রেল স্টেশনের কাছে রেলের জমিতে বহু প্রতীক্ষিত ‘সাই’ (SAI – Sports Authority of India) ন্যাশনাল সেন্টার অফ এক্সিলেন্স তৈরির কাজ খুব শিগগিরই শুরু হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে লাল ফিতের ফাঁসে আটকে থাকা এই মেগা প্রকল্প নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। রাজ্যের নবনিযুক্ত ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক জানিয়েছেন, প্রকল্পটি দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রককে চিঠি পাঠানো হচ্ছে এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়েছে।
২০০ কোটির স্বপ্নের প্রকল্প ও দীর্ঘ প্রতীক্ষা
এই প্রকল্পটি কোচবিহার তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা বহু বছর আগে নেওয়া হলেও জমি সংক্রান্ত জটিলতা, অনুমোদন এবং নানাবিধ পরিকাঠামোগত সমস্যার কারণে কাজ থমকে গিয়েছিল। নিউ কোচবিহার স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় রেলের এই বিশাল জমিতেই গড়ে উঠবে আধুনিক স্পোর্টস হাব।
তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোরের অবসান?
এই প্রকল্পটিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে তীব্র দড়ি টানাটানি চলেছে।
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ: তৃণমূল, সিপিএম সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই প্রকল্প দ্রুত রূপায়ণের দাবিতে একাধিকবার আন্দোলন করেছে। তাদের অভিযোগ ছিল, কেন্দ্রের প্রশাসনিক গাফিলতি ও উদাসীনতার কারণেই উত্তরবঙ্গের ক্রীড়াবিদরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিজেপির পাল্টা দাবি: অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছিল যে, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতা এবং জমি জটের কারণেই প্রকল্পটির কাজ এগোতে পারেনি।
তবে নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিশীথ প্রামাণিক এই জট কাটাতে কোমর বেঁধে নেমেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই প্রকল্প বহু আগেই সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতায় কাজ থমকে যায়। এবার আর কোনো দেরি নয়, দ্রুত গতিতে কাজ শুরু করাই লক্ষ্য।
হাই-ভোল্টেজ তারের জট কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ
প্রকল্পের কাজ শুরু করার ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রকৌশলগত বাধা হলো ওই এলাকার ওপর দিয়ে যাওয়া উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুতের তার (হাই ভোল্টেজ লাইন)।
মন্ত্রীর কড়া নির্দেশ: বিদ্যুৎ লাইন না সরানো পর্যন্ত নির্মাণকাজ শুরু করা অসম্ভব। তাই ক্রীড়ামন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠানো হচ্ছে। রেল, বিদ্যুৎ ও ক্রীড়া দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে দ্রুত এই জট কাটানো হচ্ছে।
খুশির হাওয়া উত্তরবঙ্গের ক্রীড়ামহলে
প্রশাসনের এই তৎপরতায় স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী এবং তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তাঁদের মতে, কোচবিহারের মাটিতে এমন একটি ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ গড়ে উঠলে ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স সহ বিভিন্ন ইভেন্টে উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ প্রতিভা আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে। এখন দেখার, সব জটিলতা কাটিয়ে কবে নাগাদ এই মাঠের ঘাসে বল গড়াতে শুরু করে।