পুরসভার নথিতে লিক হলো অভিষেক-সায়নীর যৌথ সম্পত্তি? সেভেন ট্যাঙ্ক রোডের ফ্ল্যাট নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

দক্ষিণ কলকাতায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) একাধিক বাসভবন ও সম্পত্তিতে কলকাতা পুরসভার (KMC) নোটিস পাঠানো নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন, ঠিক তখনই আগুনে ঘি ঢালল আরও এক বিস্ফোরক তথ্য। এবার বিতর্ক দানা বেঁধেছে কলকাতার সেভেন ট্যাঙ্ক লেনের (Seven Tanks Lane) একটি ফ্ল্যাটকে কেন্দ্র করে। পুরসভার একটি গোপন নথি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ১৯ডি সেভেন ট্যাঙ্ক লেনের ওই ফ্ল্যাটটির যৌথ মালিক (Joint Owner) হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি নাম রয়েছে তৃণমূলের তারকা সাংসদ সায়নী ঘোষের (Sayoni Ghosh)!
ফ্ল্যাটের যৌথ মালিকানায় ‘সায়নী ঘোষ’! নথিতে কী আছে?
কলকাতা পুরসভার অ্যাসেসমেন্ট বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে ভাইরাল হওয়া ওই নথিতে দেখা যাচ্ছে, ১৯ডি সেভেন ট্যাঙ্ক লেনের ফার্স্ট ফ্লোরের ‘১বি’ ফ্ল্যাটটির মালিকানার জায়গায় স্পষ্ট অক্ষরে লেখা রয়েছে—‘শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও শ্রীমতী সায়নী ঘোষ’।
বিজেপি রাজ্যের ক্ষমতায় আসার পর এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল নেতাদের সম্পত্তির খতিয়ান নিয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই পুরসভার এই নথি প্রকাশ্যে আসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, এই সায়নী ঘোষ কি যাদবপুরের বিদায়ী সাংসদ তথা যুব তৃণমূলের সায়নী, নাকি নামের মিল থাকা অন্য কেউ? এই নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশাল মিডিয়ায় জল্পনা ও চর্চা তুঙ্গে।
১৭টি সম্পত্তিতে নোটিস! কড়া স্ক্যানারে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’
এই ফ্ল্যাট বিতর্কের সমান্তরালেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ও অফিসে একের পর এক নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা। বেআইনি ও অননুমোদিত নির্মাণের অভিযোগে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ৪০০(১) ও ৪০১ ধারায় এই নোটিসগুলি পাঠানো হয়েছে।
কোন কোন বাড়ি নজরে? হরিশ মুখার্জি রোডের বিখ্যাত ‘শান্তিনিকেতন’ ভবন (যেখানে অভিষেক থাকেন), কালীঘাট রোডের বহুতল সহ মোট ১৭টি সম্পত্তির দেওয়ালে নোটিস সাঁটানো হয়েছে।
৭ দিনের ডেডলাইন: পুরসভার তরফে সাফ জানানো হয়েছে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে অনুমোদিত প্ল্যান এবং বিল্ডিংয়ের নকশা জমা দিতে হবে। কোনো বেআইনি অংশ পাওয়া গেলে তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় পুরসভা নিজেই বুলডোজার চালাবে।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি এক সভায় স্পষ্ট অভিযোগ করেছিলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ কোম্পানির নামে ১৪টি, নিজের নামে ৪টি এবং বাবার নামে ৬টি—মোট ২৪টি সম্পত্তি রয়েছে। এই লুটের হিসেব নেওয়া হবে।” তার পরেই পুরসভার এই নজিরবিহীন অ্যাকশন।
“বাড়ি ভেঙে দিলেও আমি ঝুঁকব না”, হুঙ্কার অভিষেকের
কলকাতা পুরসভায় তৃণমূলের বোর্ড থাকা সত্ত্বেও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বাড়িতে এমন নোটিস যাওয়ায় স্তম্ভিত খোদ ঘাসফুল শিবিরের কর্মীরা। তবে এই চাপের মুখেও যে তিনি পিছু হঠছেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ।
মঙ্গলবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে আয়োজিত তৃণমূলের নবনির্বাচিত ও বিদায়ী বিধায়কদের জরুরি বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দেন অভিষেক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান:
“রাজ্যে এর আগেও অনেক মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন, কিন্তু ক্যামেরা ও ক্যামেরার বাইরে টাকা নেওয়া এমন মুখ্যমন্ত্রী আমরা দেখিনি। বিজেপি যা খুশি তাই করতে পারে। আমার বাড়ি ভেঙে দিক, যত খুশি নোটিস পাঠাক, কিন্তু এই ভয় দেখিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাথা নোয়ানো যাবে না। বিজেপির এই প্রতিহিংসার রাজনীতির বিরুদ্ধে আমার লড়াই চলবেই।”
একদিকে পুরসভার বুলডোজার নোটিস আর অন্যদিকে সায়নী ঘোষের সাথে যৌথ ফ্ল্যাটের রহস্য—সব মিলিয়ে কলকাতার এই হাই-ভোল্টেজ পলিটিক্যাল ড্রামা আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।