আজ মাঝরাত থেকেই স্তব্ধ হচ্ছে ট্রাকের চাকা! ৩ দিনের মেগা ধর্মঘটে কি টান পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জোগানে?

আর মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা, তারপরই দেশজুড়ে টান পড়তে পারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জোগানে। বিভিন্ন পণ্যবাহী পরিবহন সংগঠনের তরফ থেকে এক বৃহত্তর ধর্মঘটের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যার জেরে বড়সড় সঙ্কটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন রসদ সরবরাহে।
জানা গিয়েছে, আগামীকাল ২১ মে থেকে শুরু হয়ে ২৩ মে পর্যন্ত দিল্লি-এনসিআর (Delhi-NCR) এলাকায় টানা তিনদিনের এই ‘চাক্কা জ্যাম’ বা ধর্মঘট চলবে। এই সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দিল্লিগামী সব মালবাহী ট্রাক থামিয়ে দেওয়া হবে। একইভাবে দিল্লি থেকেও দেশের অন্য প্রান্তে কোনও পণ্যবাহী গাড়ি যেতে দেওয়া হবে না।
৬০টি পরিবহন অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থনে মহাধর্মঘট
দেশজুড়ে এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অল ইন্ডিয়া মোটর ট্রান্সপোর্ট কংগ্রেস (AIMTC)। তাদের এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি সমর্থন জানিয়েছে দেশের প্রায় ৬০টি বড় বড় পরিবহন অ্যাসোসিয়েশন এবং ইউনিয়ন।
বিক্ষোভের মূল কারণ কী?
পণ্যবাহী পরিবহনের উপর সরকারের বিপুল কর চাপানো, বিএস-৪ (BS-IV) কমার্শিয়াল গাড়ির উপর নিষেধাজ্ঞা সহ একাধিক ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাচ্ছে পরিবহন সংগঠনগুলি। অল ইন্ডিয়া মোটর অ্যান্ডস গুডস ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, দিল্লিতে পেট্রোল-ডিজেলের লাগামহীন দাম বৃদ্ধি এবং দিল্লি সরকারের তরফে বাণিজ্যিক গাড়ির উপরে পরিবেশ ক্ষতিপূরণ চার্জ বা এনভায়রনমেন্ট কমপেনসেশন চার্জ (ECC) বসানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অনৈতিক। তবে স্বস্তির বিষয় এটাই যে, ওষুধ বা দুধের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহনকারী গাড়িগুলিকে এই ধর্মঘটের আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হবে।
কী কী দাবিতে অনড় ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন?
পরিবহন সংগঠনগুলি সরকারের সামনে মূলত ৪টি বড় দাবি তুলে ধরেছে:
সেস প্রত্যাহার: দিল্লিমুখী পণ্যবাহী গাড়িতে যে অতিরিক্ত সেস বৃদ্ধি করা হয়েছে, তা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে।
বিএস-৪ গাড়ির ছাড়: দিল্লিতে রেজিস্টার্ড নয়, এমন বিএস-৪ কমার্শিয়াল গাড়ির প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে।
শুধু ট্রানজিট গাড়িতে কর: যে গাড়িগুলি দিল্লিকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে অন্য রাজ্যে যাবে, কেবল তাদের উপরই সেস বসানো যাবে।
বিএস-৬ গাড়িতে ছাড়: অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বহনকারী এবং খালি বিএস-৬ (BS-VI) গাড়ির ক্ষেত্রে সেস পুরোপুরি মকুব করতে হবে।
ফি বাড়ল ৪০০০ টাকা পর্যন্ত! পকেটে টান আমজনতার?
উল্লেখ্য, গত মাসেই দিল্লি সরকার বাণিজ্যিক গাড়িতে পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ সেস একধাক্কায় প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হালকা বাণিজ্যিক গাড়ি ও টু-অ্যাক্সেল ট্রাকের ফি ১৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, তিন-অ্যাক্সেলের বড় ট্রাক ও ভারী ট্রাকের ক্ষেত্রে এই ফি ২৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৪০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
পরিবহন মালিকদের দাবি, এই বিপুল খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়বে আমজনতার পকেটেই, যার ফলে বাড়তে পারে শাকসবজি থেকে শুরু করে সমস্ত জিনিসের দাম। এখন দেখার, ৩ দিনের এই অচলাবস্থা কাটাতে সরকার কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নেয় কি না।