AC-ফ্রিজ ছাড়াই ঘর থাকবে বরফ শীতল! তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে পূর্বপুরুষদের এই ৮টি ঘরোয়া টোটকা ট্রাই করুন!

মে মাসের মাঝামাঝি আসতেই চড়চড় করে বাড়ছে পারদ। দুপুরের কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল অবস্থা আমজনতার। এই তীব্র দাবদাহ থেকে বাঁচতে আজকাল অনেকেই এয়ার কন্ডিশনার (AC) বা হাই-স্পিড কুলারের ওপর ভরসা করেন। কিন্তু আগেকার দিনে যখন বিদ্যুৎ বা এসি ছিল না, তখন আমাদের পূর্বপুরুষেরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবেই শরীর ও ঘর ঠান্ডা রাখতেন।

আজকের প্রতিবেদনে রইল প্রাচীন ভারতের এমন ৮টি চেনা অথচ অত্যন্ত কার্যকরী ঘরোয়া উপায়, যা এই গরমেও আপনাকে রাখবে একদম ফ্রেশ ও কুল:

১. জানলা-দরজায় খসখসের পর্দা
গ্রীষ্মের লু বা গরম হাওয়া আটকাতে জানলা বা দরজায় খসখসের (Vetiver) পর্দা ঝোলানোর চল বহু প্রাচীন। এই পর্দায় সামান্য জল ছিটিয়ে দিলে সারা ঘরে প্রাকৃতিকভাবে এক সুগন্ধি ও স্নিগ্ধ ঠাণ্ডা পরিবেশ তৈরি হয়, যা ঘরের তাপমাত্রা নিমেষেই কমিয়ে দেয়।

২. মাটির কলসি বা মটকার জল
ফ্রিজের কনকনে ঠান্ডা জল সাময়িক স্বস্তি দিলেও তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তেষ্টায় বুক ফাটলে মাটির কলসির জলের চেয়ে ভালো কিছু হয় না। বাষ্পীভবন (Evaporation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাটির পাত্র প্রাকৃতিকভাবে জলকে ঠান্ডা ও পরিশ্রুত রাখে।

৩. চন্দনের শীতল প্রলেপ
গরমে ত্বকের জ্বালাভাব, ঘামাচি ও অস্বস্তি দূর করতে যুগ যুগ ধরে চন্দন বাটা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কপালে বা ত্বকে চন্দনের প্রলেপ দিলে তা শরীরকে ভেতর থেকে শীতল করে এবং মনকে শান্ত রাখে।

৪. মাটির বাড়ির বিশেষ প্রলেপ
গ্রামবাংলার মাটির বাড়িতে মেঝে ও দেওয়ালে গোবরের প্রলেপ দেওয়ার রীতি বহু পুরনো। এটি মূলত ‘থার্মাল ইনসুলেটর’ বা তাপ নিরোধক হিসেবে কাজ করে, ফলে বাইরের রোদ ঘরের ভিতর ঢুকতে পারে না। এর জীবাণুনাশক ক্ষমতাও ঘরকে সুস্থ রাখে।

৫. এক গ্লাস ঠান্ডা ঘোল বা বাটারমিল্ক
শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে প্রতিদিনের ডায়েটে এক গ্লাস ঘোল রাখা অত্যন্ত জরুরি। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোবায়োটিক ও ইলেকট্রোলাইট থাকে, যা গরমে হজমশক্তি বাড়ায় এবং হিট স্ট্রোকের হাত থেকে বাঁচায়।

৬. খোলা ছাদে বা বারান্দায় হাওয়া খাওয়া
বদ্ধ ঘরের গুমোট গরমের বদলে আগেকার দিনে গরমের রাতে খোলা ছাদে বা বারান্দায় মাদুর পেতে ঘুমানোর রেওয়াজ ছিল। রাতের খোলা হাওয়া শরীরে যে অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দিত, তা আজকের এসির হাওয়াতেও মেলা ভার।

৭. অমৃত পানীয় ‘আম পান্না’
কাঁচা আম পুড়িয়ে তৈরি আম পান্না গ্রীষ্মকালের এক অত্যন্ত রিফ্রেশিং পানীয়। এটি তীব্র গরমে শরীরে নুনের ঘাটতি মেটায়, হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষা করে এবং মুহূর্তে ক্লান্তি দূর করে এনার্জি ফিরিয়ে আনে।

৮. ছাদে চুনের সাদা প্রলেপ
কড়া রোদের হাত থেকে ছাদকে বাঁচাতে অনেকেই ছাদে চুন বা হোয়াইট ওয়াশ ব্যবহার করেন। সাদা রঙ সূর্যের তাপকে প্রতিফলিত (Reflect) করে ফিরিয়ে দেয়, ফলে ছাদ গরম হতে পারে না এবং নিচের ঘরের তাপমাত্রা অনেকটাই কম থাকে। আধুনিক কালেও ঘর ঠান্ডা রাখার এটি সবচেয়ে সস্তা ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি।