হাবড়ায় মধ্যরাতে তুলকালাম! দাপুটে তৃণমূল নেতা তারক দে-কে পুলিশ ভ্যানে তুলতেই উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগান!

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি দমনে পুলিশ-প্রশাসনের তৎপরতা তুঙ্গে। এবার উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় তোলাবাজির (Extortion) অভিযোগে সোমবার রাতে গ্রেফতার হলেন এলাকার দাপুটে ও প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তারক দে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম চালানোর অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে জড়ালেন এই দাপুটে নেতা। তবে সবচেয়ে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় গ্রেফতারির ঠিক পরেই।
প্রিজন ভ্যান ঘিরে জনরোষ, উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগান!
সোমবার গভীর রাতে পুলিশ যখন তারক দে-কে গ্রেফতার করে থানার বাইরে নিয়ে আসে, তখন সেখানে উপস্থিত হন বহু স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসায়ী। দাপুটে নেতাকে পুলিশ গাড়িতে তোলার সময় আর নিজেদের ক্ষোভ ধরে রাখতে পারেননি তাঁরা। প্রিজন ভ্যানটিকে ঘিরে ধরে সমস্বরে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন উত্তেজিত জনতা। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের এই বহিঃপ্রকাশে থানা চত্বরে কিছুক্ষণের জন্য তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিয়ে কোনোমতে অভিযুক্ত নেতাকে নিয়ে রওনা দেয়।
ঠিক কী অভিযোগ এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে?
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাবড়া এবং সংলগ্ন এলাকায় তারক দে-র বিরুদ্ধে জমি কেনাবেচা, গৃহনির্মাণ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার ভুরিভুরি অভিযোগ ছিল।
ব্যবসায়ীদের হুমকি: অভিযোগ, এলাকায় কেউ নতুন ব্যবসা খুলতে গেলে বা বাড়ি তৈরি করতে গেলে তারক ও তাঁর অনুগামীদের নির্দিষ্ট পরিমাণ ‘কাটমানি’ বা তোলা দিতে হতো। টাকা দিতে অস্বীকার করলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।
টাকার লেনদেনের প্রমাণ: সম্প্রতি এক ব্যবসায়ী তারক দে-র বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে এবং প্রাথমিক কিছু তথ্যপ্রমাণ হাতে পাওয়ার পরই সোমবার রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
তদন্তে পুলিশ: নেপথ্যে আর কারা?
তৃণমূল নেতা তারক দে-র এই গ্রেফতারির পর হাবড়ার ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তির হাওয়া ফিরলেও, পুলিশ এই চক্রের শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে চাইছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই তোলাবাজি সিন্ডিকেটের পেছনে তারকের সাথে আর কোনো প্রভাবশালী নেতার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ধৃত নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের বাকি সদস্যদের হদিশ পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।