‘ফেঁসে গেছি…’, শেষ মেসেজের পরই মিলল ঝুলন্ত দেহ! ভোপালের তিশা শর্মা মৃত্যু মামলায় এবার আদালতের দ্বারস্থ মা-বাবা!

নয়ডার মেয়ে তিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুকে (Twisha Sharma Death Case) কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে তোলপাড় দেশ। গত ১২ মে ভোপালের কাটরা হিল্স এলাকার শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় এই অন্তঃসত্ত্বা তরুণীর ঝুলন্ত দেহ। তিশার মৃত্যু আসলে আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পনা করে খুন (Bhopal Death Case), এই প্রশ্নেই এখন তীব্র দোলাচলে মায়ানগরী। পরিবারের দাবি, তাঁদের মেয়েকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে। অন্যদিকে, তদন্তের বর্তমান পর্যায়ে পুলিশ বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করলেও, তদন্তের পরিকাঠামো নিয়ে উঠছে একাধিক বিস্ফোরক প্রশ্ন।
শাশুড়ির ‘মাদকাসক্তি’র দাবি ওড়াল ময়নাতদন্তের রিপোর্ট!
মৃত্যুর পর থেকেই তিশার শ্বশুরবাড়ির তরফে নানা চাঞ্চল্যকর দাবি করা হচ্ছিল। মৃতার শাশুড়ি গিরিবালা সিং দাবি করেছিলেন, তিশা নাকি তীব্র মাদকাসক্ত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর জানতে পারেন, কিন্তু এখনই মা হতে রাজি ছিলেন না বলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। শাশুড়ির অভিযোগ ছিল, গর্ভবতী অবস্থাতেও তিশা নিয়মিত মাদক সেবন করতেন।
তবে ময়নাতদন্তের (Post-Mortem Report) ফাইনাল রিপোর্ট গিরিবালার এই দাবিকে সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে। ভোপালের পুলিশ কমিশনার সঞ্জয় কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিশার শরীরে বা রক্তে কোনো ধরনের মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাঁর কথায়, “ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে এটা স্পষ্ট যে ঘটনাটি হত্যা নয়, আত্মহত্যা। গলায় ফাঁসের চিহ্নও (Ligature Mark) সেই কথাই বলছে।”
স্বামী-শাশুড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ
তিশার মা-বাবার অভিযোগ অবশ্য সম্পূর্ণ উল্টো। তাঁদের দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্বামী সমর্থ সিং এবং শাশুড়ি গিরিবালা সিং তিশার ওপর মারাত্মক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন। প্রতিনিয়ত পণের জন্য চাপ দেওয়া হতো। মৃত্যুর আগের দিনও তিশা তাঁর এক বন্ধুকে মেসেজে লিখেছিলেন, “আমি ফেঁসে গেছি…”। পরিবারের স্পষ্ট অভিযোগ, এই চক্রই তিশাকে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে অথবা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বেল্ট উধাও! ফরেনসিক গাফিলতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
পুলিশ এই ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ বলে দায় সারতে চাইলেও, তিশার পরিবার তদন্তের একটি বড় ফাঁক বা গাফিলতি সামনে এনেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: নিয়ম অনুযায়ী, যে বস্তুটির (যেমন দড়ি বা বেল্ট) সাহায্যে ফাঁসি দেওয়া হয়, সেটি গলার দাগের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার জন্য অবিলম্বে ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো বাধ্যতামূলক। কিন্তু তিশার পরিবার অভিযোগ করেছে, যে বেল্টটি ব্যবহার করে তিশা ঝুলেছিলেন, সেটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোই হয়নি! সেই মূল আলামত বা ‘ক্রাইম অবজেক্ট’ ছাড়াই কীভাবে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি হয়ে গেল, তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবিতে আদালত
ভোপাল পুলিশের এই তড়িঘড়ি তদন্তে একেবারেই সন্তুষ্ট নয় তিশার পরিবার। তদন্তে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তুলে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য তাঁরা এবার দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের (Second Autopsy) দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
এই বিষয়ে ভোপাল পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়ার এক্তিয়ার একমাত্র আদালতেরই রয়েছে। আদালত নির্দেশ দিলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিশা যদি আত্মহত্যাও করে থাকেন, তবে তাকে আত্মহত্যার প্ররোচনা (Abetment to Suicide) দেওয়ার অভিযোগে স্বামী ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সবাই।