শুভেন্দুর আপ্ত সহায়িকা খুনে বারাণসী থেকে গ্রেফতার মোস্ট ওয়ান্টেড বিনয়! সিবিআই জালে আরও ১!

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং তাঁর প্রাক্তন আপ্ত সহায়ক (PA) চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath) খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এবার এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তে নেমে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল সিবিআই (CBI)। উত্তর প্রদেশের বারাণসী থেকে বিনয় রাই নামে এক দাগী অপরাধীকে পাকড়াও করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

যোগীরাজ্য থেকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায়!
জানা গিয়েছে, ধৃত বিনয় রাইয়ের আদি বাড়ি উত্তর প্রদেশের গাজিপুরে হলেও, বছর চল্লিশের ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বারাণসীতেই ডেরা বেঁধেছিল। স্থানীয় সূত্রে খবর, বারাণসী এলাকায় সম্পত্তি কেনাবেচা বা প্রোমোটিং ব্যবসার আড়ালে সে নিজের অপরাধ সাম্রাজ্য চালাত।

বারাণসীর এক পুলিশ আধিকারিক মারফত জানা গিয়েছে, বারাণসীর এক স্থানীয় আদালতে বিনয় রাইকে তোলার পর সটান ২ দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়েছে সিবিআই। তাকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে এবং আজ বুধবারই বারাসত আদালতে পেশ করা হতে পারে। বারাণসীর রিজার্ভ পুলিশ লাইন এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়া বিনয়ের বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা-সহ একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে।

কী ঘটেছিল সেই অভিশপ্ত রাতে?
২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের ঠিক দুদিন পর, গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়া লেনে নৃশংসভাবে খুন হন প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী তথা শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী চন্দ্রনাথ রথ। অভিযোগ, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে বাইকে এসে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় পেশাদার শার্পশুটাররা।

SIT থেকে CBI-এর হাতে তদন্ত: প্রথমে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। সেই তদন্তে ডিজিটাল পেমেন্টের সূত্র ধরে বিহার ও উত্তর প্রদেশ থেকে মায়াঙ্ক রাজ মিশ্র, রাজ সিং এবং ভিকি মৌর্য নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর মামলার গুরুত্ব বুঝে তদন্তভার নেয় সিবিআই। কেন্দ্রীয় সংস্থা দায়িত্ব নিয়েই উত্তর প্রদেশের মুজফফরনগর থেকে মামলার ‘প্রধান শুটার’ রাজকুমার সিংকে গ্রেফতার করে। এবার বিনয় রাই ধরা পড়ায় এই মামলায় মোট ধৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫।

খুনের নেপথ্যে বাংলার ‘মাস্টারমাইন্ড’?
তদন্তকারীদের ঘুম উড়িয়েছে একটি বিশেষ তথ্য— চন্দ্রনাথ খুন কাণ্ডে ধৃত পাঁচজন অপরাধীই ভিনরাজ্যের বাসিন্দা। ভুয়ো নম্বর প্লেট এবং চেসিস নম্বর জাল করে অত্যন্ত পেশাদার কায়দায় মাত্র ৫০ সেকেন্ডের মধ্যে এই কিলিং অপারেশন চালানো হয়েছিল।

সিবিআই অফিসারদের প্রাথমিক অনুমান, ভিনরাজ্যের শুটারদের ভাড়া করে আনা হলেও, রেকি করা এবং চন্দ্রনাথের গতিবিধির খুঁটিনাটি তথ্য দেওয়ার পেছনে বাংলার কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা স্থানীয় চক্রান্তকারীর প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে। বিনয় রাইকে জেরা করে এই সুপারি কিলিংয়ের আসল রূপরেখা এবং নেপথ্যের ‘মাস্টারমাইন্ড’-এর নাম উদ্ধার করাই এখন সিবিআই-এর প্রধান লক্ষ্য।