লঞ্চ হলো অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অফিসিয়াল পোর্টাল! তবে লগ ইন করতেই দেখাচ্ছে ‘ইনভ্যালিড’, কী জানাল সরকার?

রাজ্যে নারী কল্যাণে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে নতুন সরকার। ১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে চলেছে বহুল চর্চিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar) প্রকল্প। পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর বদলে এবার থেকে রাজ্যের যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার (Cabinet Meeting) বৈঠকে এই মেগা প্রকল্পে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই অর্থ দফতরের তরফ থেকে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে এবং চালু হয়েছে অফিসিয়াল পোর্টাল।
কারা পাবেন এই টাকা? পুরনোদের কি আবেদন করতে হবে?
নতুন সরকারের নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যাঁরা আগে থেকেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁদের এই ৩,০০০ টাকা পাওয়ার জন্য আলাদা করে কোনো নতুন আবেদন করতে হবে না। তাঁদের পুরনো অ্যাকাউন্টেই সরাসরি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা চলে আসবে।
অন্যদিকে, যাঁরা এতদিন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নাম নথিভুক্ত করতে পারেননি, তাঁরাও এবার নতুন করে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-তে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য মহিলার বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
কারা পাবেন না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার? ছাঁটাই হবে লাখ লাখ নাম!
টাকা দেওয়ার পাশাপাশি কারা এই সুবিধা পাবেন না, তার একটি দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করেছে অর্থ দফতর। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী:
কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের স্থায়ী কর্মচারী এবং পেনশনভোগীরা এই সুবিধা পাবেন না।
রাজ্য সরকারের অনুমোদিত শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মী, পঞ্চায়েত কর্মী এবং আয়করদাতারা (Income Tax Payers) এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন।
প্রায় ৯১ লক্ষ নাম নতুন করে খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কেউ মারা গিয়ে থাকলে বা বাংলাদেশি নাগরিক হলে তাঁদের নাম তালিকা থেকে সরাসরি বাতিল করা হবে। এছাড়া, যাঁদের নাম SIR তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের নাগরিকত্ব আলাদা করে যাচাই করা হবে।
অফিসিয়াল পোর্টাল চালু, তবে দেখা দিয়েছে যান্ত্রিক ত্রুটি!
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য ইতিমধ্যেই সরকার একটি বিশেষ অফিসিয়াল পোর্টাল চালু করেছে। এই ওয়েবসাইটে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য ও স্টেটাস (Application Status) দেখা যাবে।
তবে পোর্টাল চালু হলেও শুরুতেই বিপত্তি! এখনও নতুন রেজিস্ট্রেশনের অপশনটি পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি। অনেকেই পোর্টালে লগ ইন করতে গিয়ে ‘ইনভ্যালিড’ (Invalid) মেসেজ দেখছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন। নবান্ন সূত্রে খবর, এই প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা গ্লিচ মেটানোর জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। সমস্যা মিটে গেলেই পুরোদমে নতুন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।
আবেদন যাচাইয়ের দায়িত্বে কারা?
আবেদনে যাতে কোনো জালিয়াতি না হয়, তার জন্য কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। গ্রামাঞ্চলে জমা পড়া আবেদনগুলি যাচাইয়ের চূড়ান্ত দায়িত্ব থাকবে বিডিও (BDO)-র ওপর। শহর এলাকায় এই দায়িত্ব সামলাবেন মহকুমা শাসক (SDO)। আর কলকাতা পুরসভা এলাকার ক্ষেত্রে আবেদনপত্র যাচাই করবে পুর কমিশনারের দফতর। সমস্ত স্তরে সবুজ সংকেত মেলার পরেই সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (Direct Benefit Transfer) টাকা পাঠানো হবে।