১০,০০০ কোটির মহাস্ক্যাম বীরভূমে! আগে যেখানে আসত ১৯ লাখ, নতুন সরকার আসতেই একদিনে আয় ২ কোটির পার!

বীরভূমের পাথর শিল্পাঞ্চলকে কেন্দ্র করে সামনে এল এক বিস্ফোরক দুর্নীতির খতিয়ান! বিগত সরকারের আমলে এই জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব তছরুপ হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন সিউড়ির বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, পাথর খাদান ও টোল গেট থেকে আদায় হওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি তহবিলে জমা না পড়ে সোজা চলে গিয়েছে প্রভাবশালী কালোবাজারিদের পকেটে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জেলা প্রশাসনের সাথে বীরভূমের বিজেপি বিধায়কদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়। আর সেই বৈঠকেই বীরভূমের খনিজ সম্পদ লুঠ রুখতে নেওয়া হয়েছে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
৪ সরকারি দফতরের যৌথ অপারেশন: বন্ধ হলো বেসরকারি দাদাগিরি
নতুন সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বীরভূম জেলার ২৫০টি পাথর খাদান এবং ৯টি টোল গেট থেকে রাজস্ব আদায়ের জন্য সমস্ত বেসরকারি সংস্থাকে পুরোপুরি হটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার থেকে কোনো থার্ড পার্টি বা বেসরকারি সংস্থা নয়, বরং সরকারের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ দফতর যৌথভাবে সরাসরি ময়দানে নেমে রাজস্ব আদায় করবে। আর এই নতুন কঠোর ব্যবস্থা চালু হতেই ম্যাজিকের মতো কাজ হয়েছে; মাত্র কয়েকদিনেই বীরভূমের পাথর শিল্পে রেকর্ড আয় লক্ষ্য করা গিয়েছে।
আগে ১৯ লাখ, এখন কোটির পার! দেখুন চমকে দেওয়া পরিসংখ্যান
এক সাংবাদিক সম্মেলনে সিউড়ির বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বিগত আমল বনাম বর্তমান জমানার রাজস্ব আদায়ের কিছু চোখ কপালে তোলার মতো তুলনামূলক তথ্য প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন:
| সময়কাল / তারিখ | রাজস্ব আদায়ের ধরণ | দৈনিক গড় আয় |
| বিগত সরকারের আমল | বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে | মাত্র ১৯ লক্ষ টাকা |
| নভেম্বর ২০২৫ – মার্চ ২০২৬ | জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক চাপে | ৭০ লক্ষ টাকা |
| ১৭ মে, ২০২৬ | নতুন সরকারি তদারকির প্রথম দিন | ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা |
| ১৮ মে, ২০২৬ | মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নতুন রেকর্ড | ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা |
১০ হাজার কোটির উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি
পরিসংখ্যান দিয়ে বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, যদি সরকারি নজরদারি ও সততা এভাবে বজায় রাখা যায়, তবে আগামী দিনে বীরভূমের এই শিল্পাঞ্চল থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত রাজস্ব আদায় সম্ভব।
যেখানে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা সরকারি তহবিলে আসছে, সেখানে এতদিন কেন মাত্র ১৯ লক্ষ টাকা আসত? এই প্রশ্ন তুলেই বিধায়ক বলেন, হিসাব কষলে বিগত বছরগুলোতে সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। এই মহাস্ক্যামের সত্যতা জনগণের সামনে আনতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনার পর বীরভূমের রাজনৈতিক ও কয়লা-পাথর মাফিয়া মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।