কৃষকদের অ্যাকাউন্টে আসবে বছরে ৬,০০০ টাকা! বাংলায় শুরু হলো পিএম কিষান, কারা পাবেন আর কারা বাদ? জেনে নিন নিয়ম

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে এবার রাজ্যের শাসনভার নিজেদের হাতে নিয়েছে বিজেপি। আর পদ্মশিবির কুর্সিতে বসতেই রাজ্যে একে একে চালু হতে শুরু করেছে এতদিন আটকে থাকা সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্প।

এই আবহে রাজ্যের সাধারণ মানুষ ও বিশেষ করে অন্নদাতাদের জন্য মোদী সরকারের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি কেন্দ্রীয় প্রকল্প চালু হওয়া নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য উপভোক্তাদের বছরে মোট ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এই প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের কৃষকদের মধ্যে তুমুল উৎসাহ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে— কারা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য এবং কীভাবে আবেদন করতে হবে?

সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা, থাকবে না কোনো দালালরাজ!
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা অন্নদাতাদের সরাসরি সাহায্য করা। এই প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। অর্থাৎ DBT (Direct Benefit Transfer) ব্যবস্থার মাধ্যমে টাকা পৌঁছে যাবে। ফলে মাঝপথে কোনো মধ্যস্থতাকারী বা দালালের ভূমিকা থাকবে না এবং দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না বলেই দাবি কেন্দ্রের।

পিএম কিষান সম্মান নিধি (PM Kisan): কী এই প্রকল্প?
২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর দেশজুড়ে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনা’ চালু করে কেন্দ্র। এই প্রকল্পের আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বছরে মোট ৬,০০০ টাকা আর্থিক সাহায্য দিয়ে থাকে নরেন্দ্র মোদী সরকার। ২,০০০ টাকা করে মোট তিনটি কিস্তিতে সরাসরি চাষিদের অ্যাকাউন্টে আসে সেই টাকা। তিনটি কিস্তির সময়সীমা হলো—

প্রথম কিস্তি: এপ্রিল থেকে জুলাই

দ্বিতীয় কিস্তি: অগস্ট থেকে নভেম্বর

তৃতীয় কিস্তি: ডিসেম্বর থেকে মার্চ

🚫 কারা পাবেন না এই টাকা? কেন্দ্রের কড়া শর্তাবলি
পিএম কিষানের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া যোগ্যতা ও নিয়মের কথা জানিয়েছে সরকার। নিচে দেওয়া তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা এই সুবিধার বাইরে থাকবেন:

প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিমালিক: সরকারের ভূমি রাজস্ব দফতরের রেকর্ড অনুযায়ী আবেদনকারীর অবশ্যই নিজস্ব চাষযোগ্য জমি থাকতে হবে। তবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিমালিক (Institutional Landholder) এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

উচ্চ আয়ের কৃষক: উচ্চ অর্থনৈতিক স্তরে থাকা বা ধনী কৃষকদের এই প্রকল্পের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী: আবেদনকারী চাষি কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী হতে পারেন, তবে তাঁর মাসিক বেতন বা পেনশনের অঙ্ক যদি ১০,০০০ টাকা বা তার বেশি হয়, তবে তিনি পিএম কিষানের টাকা পাবেন না।

পেশাদার করদাতা: যাঁরা নিয়মিত আয়কর (Income Tax) দেন বা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবীর মতো পেশার সাথে যুক্ত, তাঁরা এই সুবিধা পাবেন না।

আবেদনের জন্য কী কী নথি লাগবে এবং কীভাবে করবেন?
আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতের তথা পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি ও প্রক্রিয়াগুলি হলো:

১. প্রয়োজনীয় তথ্য: আবেদনকারীর নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল নম্বর, জমির মালিকানার যাবতীয় বৈধ নথি (খতিয়ান/পর্চা) এবং নির্দিষ্ট পরিচয়পত্র (আইডি) থাকতে হবে।
২. ই-কেওয়াইসি (e-KYC): আবেদনের সময় বায়োমেট্রিক যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।

আবেদন করার পদ্ধতি:
ঘরে বসেই অনলাইনে এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য কেন্দ্রের একটি নির্দিষ্ট অফিসিয়াল পোর্টাল চালু রয়েছে। কৃষকেরা সেখানে লগ-ইন করে সরাসরি নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। এছাড়া স্থানীয় ভূমি রাজস্ব দফতরের (BLRO অফিস) মাধ্যমে বা নিকটবর্তী তথ্য মিত্র কেন্দ্রের (CSC) সাহায্য নিয়েও পিএম কিষানের জন্য নতুন রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব।