উত্তরপ্রদেশে নয়া ফরমান! রাস্তায় নমাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতেই দেশজুড়ে তীব্র জল্পনা

জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এবার রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনজীবন স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত কড়া ও নজিরবিহীন নির্দেশিকা জারি করল যোগী সরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ধর্মীয় আচরণের নামে জনসাধারণের যাতায়াতের রাস্তা বা হাইওয়ে কোনোভাবেই অবরুদ্ধ করা যাবে না। রাস্তায় নমাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকারের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করলে কড়া আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে।
লখনউয়ের প্রশাসনিক সূত্রে খবর, অতীতে বিভিন্ন উৎসব বা বিশেষ ধর্মীয় তিথিতে রাস্তা আটকে বড়সড় জমায়েত এবং নমাজ পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিকবার তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে আপদকালীন পরিষেবা যেমন অ্যাম্বুলেন্স বা দমকলের গাড়ি আটকে পড়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এই জনভোগান্তি চিরতরে বন্ধ করতেই এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে যোগী প্রশাসন।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ উচ্চপদস্থ পুলিশ ও আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে, কিন্তু তা যেন অন্য কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার বা যাতায়াতের স্বাধীনতাকে খর্ব না করে। নির্দিষ্ট ধর্মীয় স্থান বা মসজিদের ভেতরেই সমস্ত ধর্মীয় আচার সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অনুমতি ছাড়া রাস্তা আটকে বা যাতায়াত বিঘ্নিত করে কোনো কর্মসূচি বরদাস্ত করা হবে产品的।
ইতিমধ্যেই উত্তরপ্রদেশের সমস্ত জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারদের এই নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে পালন করার জন্য বিশেষ নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে বাড়তি নজরদারি চালানোর পাশাপাশি ড্রোন এবং সিসিটিভি-র মাধ্যমে নজর রাখার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। সরকারের এই কড়া অবস্থানের পর একাধারে যেমন মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তেমনই অন্যদিকে বড়সড় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে যোগী সরকার।