কালো দাগ ধরা কলাই দূর করবে মরণ রোগ! খাওয়ার আগে শুধু দেখে নিন এই ১টি জিনিস, নাহলে হতে পারে ফুড পয়জনিং

ফল হিসেবে কলার জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল চটজলদি এনার্জি জোগাতে দারুণ কার্যকর। কিন্তু বাজার থেকে কলা কিনে আনার পর দু-এক দিন ঘরে রাখলেই দেখা যায় খোসার ওপর ছোট ছোট বাদামি বা কালো দাগ পড়তে শুরু করেছে। অনেকেই এই দাগ দেখে ভাবেন কলাটি পচে গেছে, আর তা না খেয়ে সোজা ডাস্টবিনে ফেলে দেন। কিন্তু পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন একদম উল্টো কথা। কলার এই বাদামি দাগ আসলে পুষ্টির খনি, তবে সব ক্ষেত্রে নয়। কিছু ক্ষেত্রে এই দাগ কিন্তু বিপদের সংকেতও হতে পারে।

কখন এই বাদামি দাগ অমৃত? কলা যত পাকতে থাকে, তার খোসার ওপর তত বেশি বাদামি ছোপ বা ‘সুগার স্পট’ দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, সম্পূর্ণ হলুদ কলার চেয়ে এই হালকা বাদামি দাগযুক্ত কলা হজম করা অনেক বেশি সহজ। পাকা কলার এই দাগগুলো নির্দেশ করে যে, এর ভেতরের স্টার্চ বা শ্বেতসার পুরোপুরি প্রাকৃতিক চিনিতে রূপান্তরিত হয়েছে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, জাপানি গবেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত পাকা কলায় ‘টিএনএফ’ (Tumor Necrosis Factor) নামের একটি উপাদান তৈরি হয়, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরের ভেতরের ক্ষতিকর ও অস্বাভাবিক কোষের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। তাই সামান্য দাগযুক্ত কলা ফেলে দেওয়া মানে পুষ্টির একটি বড় অংশ অপচয় করা।

কখন এটি বিষ বা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? কলায় দাগ থাকা ভালো, তবে তারও একটি সীমা রয়েছে। যদি দেখা যায় কলার খোসাটি অতিরিক্ত কালো হয়ে গেছে, স্পঞ্জ বা তুলার মতো নরম হয়ে গেছে এবং গা থেকে কোনো দুর্গন্ধ বের হচ্ছে, তবে তা ভুলেও খাবেন না।

সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো—যদি কলার খোসা ছাড়ানোর পর ভেতরের অংশে কোনো কালো বা কালচে ছোপ দেখা যায়, কিংবা ভেতরের শাঁসটি আঠালো ও তরল হয়ে যায়। এগুলো মূলত ফাঙ্গাস বা ছত্রাকের আক্রমণের লক্ষণ। এই ধরনের অতিরিক্ত পচে যাওয়া কলা খেলে পেটের মারাত্মক সমস্যা, বমি বা ফুড পয়জনিং হতে পারে।

তাই পুষ্টিবিদদের পরামর্শ—কলা কিনুন এবং খান, তবে খাওয়ার আগে অবশ্যই দেখে নিন বাদামি দাগটি কেবল খোসার ওপরই সীমাবদ্ধ নাকি তা ভেতরের অংশকেও নষ্ট করে ফেলেছে। একটু সচেতনতাই আপনাকে পুষ্টি আর বিপদের ফারাক বুঝিয়ে দেবে।

Editor001
  • Editor001