নবান্নে এবার শুভেন্দুর ‘মাস্টারস্ট্রোক’! ৩ মন্ত্রীর দফতরে হাইপ্রোফাইল নিয়োগ, কোন চালে কাঁপছে রাজ্য রাজনীতি?

রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতেই নবান্ন এবং মহাকরণের প্রশাসনিক স্তরে রদবদলের মহোৎসব অব্যাহত। রাজ্যের শাসনভার হাতে নেওয়ার পর থেকেই নিজের সচিবালয় ও মুখ্যমন্ত্রী দফতরকে (সিএমও) সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজাতে শুরু করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দলদাসের তকমা ঝেড়ে ফেলে প্রশাসনে গতি আনতে ইতিমধ্যেই ষাটোর্ধ্ব ২৪৩ জন আমলাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এবার সেই সংস্কারের ধারা বজায় রেখে রাজ্যের তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) পদে তিন ডব্লিউবিসিএস (এগজিকিউটিভ) আধিকারিককে নিয়োগ করল রাজ্য সরকার।

রাজ্য কর্মী ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় কোন মন্ত্রীর ডানা শক্ত করতে কাদের আনা হলো, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক:

বিশ্বনাথ চৌধুরী: ২০১৩ ব্যাচের এই ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক বর্তমানে হুগলি জেলা পরিষদের ডেপুটি সেক্রেটারি পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁকে রাজ্যের হাইপ্রোফাইল পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

কৃষ্ণ চন্দ্র মুন্ডা: ২০১৬ সালের ব্যাচের এই আধিকারিক বাঁকুড়ার খাতড়ার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। তাঁকে আদিবাসী কল্যাণ ও উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর প্রধান সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কৌশিক কুমার মাইতি: ২০১৬ ব্যাচের ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক কৌশিকবাবু বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিস্ট্রিক্ট প্ল্যানিং অফিসার পদে ছিলেন। তাঁকে খাদ্য ও সমবায় দফতরের মন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়ার ব্যক্তিগত সচিব করা হয়েছে।

চর্চার কেন্দ্রে সিএমও-র নিয়োগ, অস্বস্তিতে বিরোধী শিবির
মন্ত্রীদের সচিব নিয়োগের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে (CMO) হওয়া পূর্ববর্তী কিছু নিয়োগ নিয়ে এই মুহূর্তে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এর আগে ৭ জন সিনিয়র ডব্লিউবিসিএস অফিসারকে সিএমও-র সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি এবং ২ জন আইএএস অফিসারকে যুগ্ম সচিব পদে আনা হয়েছিল।

তবে সবথেকে বেশি চর্চা হচ্ছে ভবানীপুরের প্রাক্তন রিটার্নিং অফিসার সুরজিৎ রায়কে নিয়ে, যাঁর পোস্টিং এখন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে। উল্লেখ্য, নির্বাচন চলাকালীন তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ তুলেছিল যে, সুরজিৎবাবু যখন নন্দীগ্রামের বিডিও ছিলেন, তখন থেকেই তিনি শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এবার সেই সুরজিৎ রায়কে সিএমও-র অন্দরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়ে আসায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পুরোনো আমলাতান্ত্রিক জট কেটে নিজের বিশ্বস্ত টিম দিয়ে রাজ্য পরিচালনা করতেই মুখ্যমন্ত্রী এই একের পর এক নিখুঁত চাল চালছেন।

Saheli Saha
  • Saheli Saha