দেশের মধ্যে এক নম্বরে দিল্লি! মোদী সরকারের বিশেষ সূচকে শীর্ষস্থান ছিনিয়ে নিলেন রেখা গুপ্তা, নেপথ্যে কোন ম্যাজিক?

অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পরবর্তী সময়ে দিল্লির প্রশাসনিক রাশ হাতে নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক চমক দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। এবার জাতীয় স্তরে এক বিরাট সাফল্য অর্জন করল দেশের রাজধানী। কেন্দ্রীয় সরকারের মর্যাদাপূর্ণ ‘লজিস্টিকস ইজ অ্যাক্রস ডিফারেন্ট স্টেটস (LEADS) ২০২৫’ সূচকে গোটা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ‘অনুকরণীয়’ (Exemplar) বিভাগে শীর্ষস্থান দখল করেছে দিল্লি।

মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই অর্জনকে দিল্লির জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, লজিস্টিকস পরিকাঠামো শক্তিশালী করা, মাল্টিমোডাল সংযোগ বৃদ্ধি, ব্যবসা করার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি-চালিত শাসনব্যবস্থার কারণেই দিল্লি আজ এই অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে।

কী এই ‘লিডস সূচক’ এবং দিল্লির রাজকীয় উত্থান?
সহজ ভাষায়, একটি রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য কত দ্রুত, সস্তায় এবং প্রযুক্তির সাহায্যে করা যাচ্ছে— তার ওপর ভিত্তি করেই এই ‘লিডস সূচক’ তৈরি হয়। এতে মূলত চারটি বিভাগ থাকে: এক্সেম্পলার, হাই পারফর্মার, অ্যাক্সিলারেটর এবং গ্রোথ সিকার। এর মধ্যে ‘এক্সেম্পলার’ হলো সবচেয়ে সেরা এবং সর্বোচ্চ বিভাগ।

বিগত ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে দিল্লি ‘অ্যাচিভার’ বিভাগে থাকলেও, ২০২৫-এ সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেশের সর্বোচ্চ র‍্যাঙ্কিং ছিনিয়ে নিয়েছে রেখা গুপ্তা প্রশাসন। সড়ক, রেল, বিমানবন্দর, ডিজিটাল ব্যবস্থা, ওয়্যারহাউজিং এবং কোল্ড স্টোরেজের মতো প্রতিটি মাপকাঠিতে দিল্লির স্কোর এখন জাতীয় গড়ের চেয়ে অনেক ওপরে।

রাস্তার জট কমাতে এবার মেট্রোয় যাবে পার্সেল!
দিল্লির রাস্তায় লরি বা পণ্যবাহী গাড়ির চিলতে জট কমানোর জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সাল থেকে জনপ্রিয় কুরিয়ার সংস্থা ‘ব্লু ডার্ট’-এর সাথে অংশীদারিত্বে দিল্লি মেট্রো (DMRC) একটি পাইলট প্রজেক্ট শুরু করেছে। এর অধীনে দিনের ব্যস্ততাহীন সময়ে মেট্রো ট্রেনের মাধ্যমেই পার্সেল ও কার্গো পরিবহন করা হচ্ছে। এর ফলে সড়ক পথের ওপর থেকে চাপ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে।

এখানেই শেষ নয়, আগামী দিনে রাতের বেলা এবং অফ-পিক আওয়ারে হালকা পণ্য পরিবহনের জন্য মেট্রো নেটওয়ার্কের ব্যবহার আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এমনকি বাণিজ্যিক ও যাত্রীবাহী গাড়ি আলাদা করতে বিশেষ পণ্যবাহী করিডোর এবং মেট্রো-आरआरटीएस (RRTS) স্টেশনের সাথে যুক্ত মাল্টিমোডাল লজিস্টিকস হাবও তৈরি করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী গতি শক্তির মাস্টারপ্ল্যান এবং ই-বাসের জোয়ার
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এক বড় ঘোষণায় জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী গতি শক্তি যোজনা’-র অধীনে দিল্লির জন্য একটি বিশেষ ‘সিটি লজিস্টিকস প্ল্যান’ প্রস্তুত করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই অনুমোদিত এবং শীঘ্রই বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ পাবে। পিএম গতি শক্তি পোর্টালে দিল্লির ৪৬টি বাধ্যতামূলক স্তরের মধ্যে ৩৮টি সফলভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

পাশাপাশি দিল্লির বিখ্যাত ‘গর্তমুক্ত সড়ক অভিযান’ এবং দেশের প্রথম আঞ্চলিক দ্রুতগামী পরিবহন ব্যবস্থা ‘নমো ভারত করিডোর’ চালু হওয়ায় দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর (NCR) এলাকার মধ্যে যোগাযোগ এখন রকেটের গতিতে এগোচ্ছে।

পরিবেশ রক্ষায় দিল্লির ইভি (EV) নীতিও এখন দেশের রোল মডেল। ২০২৪-২৫ সালের মধ্যেই ২,৮০৮টি ই-বাস কেনার প্রক্রিয়া চলছে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে রাজধানীতে ১০,০০০-এর বেশি বাস নামানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশই হবে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক বাস।

নতুন নীতি ও নারীদের অংশগ্রহণ
ব্যবসায়ীদের লাল ফিতের ফাঁস থেকে মুক্তি দিতে দিল্লি সরকার ‘ওয়্যারহাউজিং অ্যান্ড লজিস্টিকস পলিসি ২০২৫’ চূড়ান্ত করছে। এর ফলে সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমের মাধ্যমে নিমেষের মধ্যে মিলবে শিল্পের অনুমোদন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই আধুনিক লজিস্টিকস খাতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে বিশেষ জোর দিচ্ছে দিল্লি স্কিলস অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ইউনিভার্সিটি (DSEU)। একই সাথে লজিস্টিকস ও ওয়্যারহাউজিং খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা এবং পরিবেশবান্ধব সবুজ গুদামজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। সব মিলিয়ে, কেজরিওয়াল জমানার পর মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার হাত ধরে দিল্লি যে দেশের সবচেয়ে আধুনিক ও দূরদর্শী সংযোগ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে, এই রিপোর্ট তারই প্রমাণ।