আজ দুপুর ১২টা বাজলেই স্তব্ধ হবে ওলা-উবার, সুইগি-জোম্যাটো! কেন জানেন? ঘর থেকে বেরনোর আগে এখনই পড়ুন

জ্বালানির লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির জেরে এবার চরম সংকটে দেশের ‘লাইফলাইন’ গিগ ওয়ার্কাররা। লিটার প্রতি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম একধাক্কায় ৩ টাকা বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে আজ, ১৬ মে দেশ জুড়ে এক বড়সড় ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন অ্যাপ-ভিত্তিক পরিবহণ ও ডেলিভারি কর্মীরা। ওলা, উবার, সুইগি ও জোম্যাটোর মতো প্রথম সারির সংস্থাগুলির চালক এবং ডেলিভারি পার্টনাররা আজ দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সম্পূর্ণ কাজ বন্ধ রাখার আবেদন জানিয়েছেন। ফলে আজ দুপুরের পর থেকে ক্যাব বুকিং বা অনলাইন খাবার ও পণ্য ডেলিভারি পেতে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ।

কেন এই আচমকা কর্মবিরতি? কী তাদের দাবি?
গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম সার্ভিস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (GIPSWU)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিনিয়ত বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, তার ওপর জ্বালানির এই নতুন মূল্যবৃদ্ধি দেশের প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ গিগ কর্মীর পেটে লাথি মারার শামিল। ডেলিভারি বয় এবং ক্যাব চালকদের রুজি-রুটির পুরোটাই নির্ভর করে রাস্তায় গাড়ি বা বাইক ছোটানোর ওপর। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে তাদের প্রতিদিনের খরচ একলাফে অনেকটাই বেড়ে যায়। কিন্তু অভিযোগ, তেলের দাম বাড়লেও অ্যাপ-ভিত্তিক কোম্পানিগুলি কর্মীদের কমিশন বা পারিশ্রমিক এক পয়সাও বাড়ায়নি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বেশ কিছু জরুরি দাবি তোলা হয়েছে:

পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি কিলোমিটারে ন্যূনতম ভাড়া বাড়াতে হবে।

সরকার ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলির কাছে প্রতি কিলোমিটারে ন্যূনতম ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনের হুঁশিয়ারি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে বাধ্য হয়ে বিপুল সংখ্যক কর্মী এই পেশা ছেড়ে দেবেন, যা পরোক্ষভাবে দেশের ডিজিটাল পরিষেবা ক্ষেত্রকে পঙ্গু করে দেবে।

‘১০-১৪ ঘণ্টা খাটুনির পরও পকেটে টান’, ক্ষোভ উগড়ে দিলেন প্রতিনিধিরা
ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি নির্মল গোরানা এই বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই মূল্যবৃদ্ধির জেরে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মহিলা কর্মী, ডেলিভারি এজেন্ট এবং সাধারণ চালকরা। একদিকে তীব্র যানজট, অন্যদিকে মরসুমের প্রচণ্ড গরম—এই সব উপেক্ষা করে দিনে ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা রাস্তায় হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছেন এই কর্মীরা। কিন্তু দিনশেষে লাভের গুড় চলে যাচ্ছে কোম্পানির ঘরে, আর কর্মীদের সামান্য আয়ে সংসার চালানোই দায় হয়ে পড়েছে।

আজকের ৫ ঘণ্টার এই প্রতীকী ধর্মঘট বড় কোনো আন্দোলনের রূপ নেয় কি না, এবং ওলা-উবার বা সুইগি-জোম্যাটোর মতো কর্পোরেট সংস্থাগুলি কর্মীদের এই দাবি মেনে নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার।