আন্দামানে আগাম বর্ষার কড়া নাড়ানি, কেরলেও ঢুকছে আগে! তবে কি এবার এল নিনোর গ্রাসে বাংলা? জানুন আবহাওয়ার মেগা আপডেট

ভারতের আবহাওয়া মানচিত্রে এক অভূতপূর্ব বদলের ইঙ্গিত মিলছে। একদিকে যখন আন্দামান ও তার সংলগ্ন সাগরে বর্ষা ঢোকার কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে, ঠিক তখনই তীব্র দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে এক খলনায়ক— ‘এল নিনো’। ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু নিয়ে আবহাওয়া দফতরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস ভারতের কৃষি ও আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর করেছে।

আন্দামানে এখনই, কেরালায় ২৬ মে: সময়ের আগেই বর্ষার এন্ট্রি
আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর, আন্দামান সাগর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মৌসুমী বায়ুর আগমনের জন্য পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অনুকূল। ১৬ মে-র মধ্যেই সেখানে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করছে। শুধু তাই নয়, কেরলে যেখানে সাধারণত ১ জুন বর্ষা ঢোকে, এবার সেখানে অনেকটাই আগে, অর্থাৎ ২৬ মে-র মধ্যে বর্ষা চলে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‘এল নিনো’-র খাঁড়া: বৃষ্টির ঘাটতির আশঙ্কা?
আন্দামান বা কেরালায় বর্ষা আগে এলেও আসল খলনায়ক হয়ে উঠতে পারে প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ু পরিবর্তন। ভারতের আবহাওয়া দফতর এবং বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ‘স্কাইমেট ওয়েদার সার্ভিসেস’—উভয়েই সতর্ক করেছে যে, ২০২৬ সালের বর্ষার মরসুমটি স্বাভাবিকের চেয়ে দুর্বল হতে পারে। এর মূল কারণ ‘এল নিনো’। প্রশান্ত মহাসাগরের জলরাশি অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠার এই প্রক্রিয়ার কারণে ভারতে মৌসুমি বৃষ্টিপাত মার খেতে পারে। ফলে দেশের ফসল উৎপাদন, পানীয় জলের প্রাপ্যতা এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি বড়সড় ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের মেঘ, দক্ষিণবঙ্গে কালবৈশাখীর দাপট
এদিকে স্থানীয় স্তরে একটি পূর্ব-পশ্চিম অক্ষরেখা মধ্যপ্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যা উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের ওপর দিয়ে গেছে। এর পাশাপাশি পূর্ব বাংলাদেশ ও তার সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এই দুইয়ের জেরে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে রাজ্যে।

উত্তরবঙ্গের আপডেট: দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে রবিবার ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে।

দক্ষিণবঙ্গের আপডেট: কলকাতায় এখনই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। তবে রবিবার নাগাদ পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে। আগামী দু’দিনে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা আরও ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে, ফলে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে।

দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ অবস্থান করলেও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে এর সরাসরি প্রভাব পড়বে না। তবে আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বর—এই চার মাস দেশজুড়ে বৃষ্টি ধারাবাহিক থাকে কি না, তার ওপরেই নির্ভর করছে দেশের অর্থনীতি ও কৃষির ভাগ্য।