বাংলায় এবার যোগী মডেল! সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনতে ‘জনতার দরবার’ বসাতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। তৃণমূলকে কার্যত বড় ব্যবধানে হারিয়ে বাংলায় প্রথমবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। আর মসনদে বসেই রাজ্যের শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একের পর এক বড় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনতে এবং তা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে এক নজিরবিহীন উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের ধাঁচেই এবার বাংলাতেও শুরু হতে চলেছে হাই-প্রোফাইল ‘জনতার দরবার’।
উত্তরপ্রদেশ মডেলে সাধারণ মানুষের ‘মুশকিল আসান’
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দীর্ঘদিন ধরেই লখনউ এবং গোরক্ষপুরে নিয়মিত ‘জনতা দরবার’ পরিচালনা করে আসছেন। সেখানে সমাজের সব স্তরের সাধারণ মানুষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর মুখোমুখি হয়ে তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন এবং তৎক্ষণাৎ প্রশাসনিক সমাধান মেলে। বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা বা ছত্তীসগঢ়ের মতো একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে এই মডেল অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করছে। এবার সেই সফল প্রশাসনিক মডেলকেই বাংলার বুকেও কার্যকর করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কবে থেকে এবং কীভাবে চালু হচ্ছে এই দরবার?
নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ১ জুন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যে শুরু হতে চলেছে এই ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, জনগণের ভোটে জিতেই এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাই মানুষের সেবা করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
প্রাথমিক রূপরেখা অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী সপ্তাহে অন্তত এক বা দুদিন নিজে এই বিশেষ দরবারে বসবেন। দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ— রাজ্যের যে কোনও প্রান্তের সাধারণ মানুষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এসে তাঁদের স্থানীয় সমস্যা, সরকারি প্রকল্পের গাফিলতি বা প্রশাসনিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ার পর তা খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে সরাসরি নির্দেশ দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিধায়কদের জন্য কড়া অনুশাসন মুখ্যমন্ত্রীর
শুধু নিজে জনতার দরবারে বসাই নয়, দলের সমস্ত জনপ্রতিনিধিদের জন্যও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি বিধানসভায় বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “মানুষ সমস্যার কথা বলছে অথচ আপনারা তা গুরুত্ব দিয়ে শুনছেন না— এমন অভিযোগ যেন আমার কানে না আসে।”
মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, প্রতিটি এলাকার বিধায়ককে সপ্তাহে অন্তত দুদিন নির্দিষ্ট সময় বের করে স্থানীয় মানুষের মুখোমুখি হতে হবে। আমজনতা যাতে অনায়াসে তাঁদের বিধায়কের কাছে পৌঁছাতে পারেন এবং নিজেদের অভাব-অভিযোগের কথা জানাতে পারেন, তা নিশ্চিত করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধর্ম পালনে এবং মানুষের দুয়ারে প্রকৃত সুশাসন পৌঁছে দিতে নতুন সরকারের এই মেগা উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।