আরব দুনিয়ায় শান্তি ফেরাতে পারে একমাত্র ভারতই! বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর একি বিস্ফোরক দাবি ইরানের!

মধ্যপ্রাচ্য বা পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি যেন এক বারুদের স্তূপ। ইজরায়েল, ইরান এবং লেবাননের মধ্যে চলা লাগাতার সংঘাতের জেরে যেকোনো মুহূর্তে এক মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কায় কাঁপছে গোটা বিশ্ব। আর এই চরম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেই বিশ্বমঞ্চে ভারতের কূটনৈতিক শক্তির এক বিশাল জয়জয়কার দেখা গেল। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে একমাত্র ভারতই।
সম্প্রতি ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এই বিস্ফোরক ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ইরানের অন্যতম শীর্ষ প্রতিনিধি তথা কূটনীতিবিদ আব্বাস আরাঘচি। আন্তর্জাতিক মহলের মতে, যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রে আমেরিকার একতরফা নীতি যখন ব্যর্থ হচ্ছে, তখন ভারতের মতো একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী রাষ্ট্রের মধ্যস্থতা বিশ্বশান্তির জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
বৈঠক শেষে ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভারতের সঙ্গে ইরান ও আরব দুনিয়ার সম্পর্ক বহু প্রাচীন এবং গভীর। একই সঙ্গে ইজরায়েলের সঙ্গেও ভারতের কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সুসম্পর্ক রয়েছে। এই অনন্য অবস্থানের কারণেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার যদি উদ্যোগী হয়, তবে আলোচনার টেবিলে বসে সব পক্ষকে শান্ত করা সম্ভব। যুদ্ধের জেরে বিশ্ব বাজারে যেভাবে তেলের দাম বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে, তা রুখতে ভারতের এই ঐতিহাসিক ভূমিকা নেওয়া উচিত বলে মনে করছে তেহরান।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও বৈঠকে ভারতের পুরনো অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, ভারত সবসময়ই আলোচনার মাধ্যমে যেকোনো আন্তর্জাতিক সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। যুদ্ধ কখনো কোনো স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না।
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই দাবি প্রমাণ করে যে বিশ্বমঞ্চে ভারতের গুরুত্ব এখন কতটা আকাশছোঁয়া। আমেরিকার রক্তচক্ষু বা পশ্চিমা দেশগুলির চাপ উপেক্ষা করে ভারত যেভাবে নিজের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখেছে, তারই ফলশ্রুতি এই বিশ্বস্ততা। এখন দেখার, পশ্চিম এশিয়ার এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে ভারতের ‘শান্তির দাওয়াই’ আগামী দিনে কতটা কাজ করে।