কালো টাকা সাদা করার মেগা সিন্ডিকেট! সোনা পাপ্পু কাণ্ডে এবার কোন প্রভাবশালী প্রোমোটারদের ডেরায় হানা দিচ্ছে ইডি?

সোনা পাপ্পু এবং ব্যবসায়ী জয় কামদারের জমি জালিয়াতি মামলার জল এবার বহু দূর গড়াতে চলেছে। এই চক্রের শিকড় খুঁজতে গিয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবার শহরের এক ঝাঁক প্রভাবশালী প্রোমোটারের সন্ধান পেয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্তকারীদের হাতে এসেছে বেশ কিছু নাম। তৈরি হয়েছে একটি গোপন তালিকাও। ইডি সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই এই তালিকায় থাকা প্রোমোটারদের তলব করে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছেন আধিকারিকরা।

তদন্তে নেমে ইডি জানতে পেরেছে, সোনা পাপ্পু ঘনিষ্ঠ একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশ কিছু প্রোমোটার সরাসরি এই জমির কারবারে যুক্ত ছিলেন। সিন্ডিকেটের একদল দালালের কাজই ছিল শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছোট ছোট জমি চিহ্নিত করে তা কম দামে হাতিয়ে নেওয়া। পরবর্তীতে সেই জমিগুলি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তুলে দেওয়া হতো ব্যবসায়ী জয় কামদারের হাতে। গোয়েন্দাদের দাবি, মূলত জয় কামদারের হাত ধরেই প্রোমোটিংয়ের ব্যবসায় হাতেখড়ি হয়েছিল সোনা পাপ্পুর। আর এই জুটির যুগলবন্দিতেই পরবর্তীতে গড়ে ওঠে এক বিশাল সিন্ডিকেট চক্র।

তবে শুধু জমি দখলই নয়, এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক বিরাট আর্থিক কেলেঙ্কারি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অনুমান, জমি জালিয়াতির মাধ্যমে বাজার থেকে সংগৃহীত কোটি কোটি কালো টাকা সাদা করার মূল মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল এই প্রোমোটারদের। প্রোমোটারদের বিভিন্ন সংস্থানে এই অবৈধ টাকা খাটানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এই মুহূর্তে জয় কামদার ও সোনা পাপ্পুর সঙ্গে সরাসরি আর্থিক লেনদেন থাকা প্রোমোটারদের আয়ের উৎস ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি খতিয়ে দেখছে ইডি।

এদিকে এই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ কর্তার নাম জড়িয়ে যাওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ মহলে প্রশ্ন উঠছে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সরকারি নথিতে দেওয়া ঠিকানা নিয়ে। জানা গেছে, ৫এফ ফার্ন রোডের যে ঠিকানাটি তিনি নথিতে উল্লেখ করেছিলেন, সেটি আসলে একটি বেআইনি নির্মাণ বলে আগেই অভিযোগ উঠেছিল।

অভিযোগ আরও গুরুতর, নিজের পদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা থাকা সত্ত্বেও ওই বিতর্কিত সম্পত্তি দখল করে সেখানে বসবাস শুরু করেন তিনি। এই মামলায় ধৃত ব্যবসায়ী জয় কামদারকে ইডি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পরেই এই বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে গোয়েন্দাদের হাতে। ফলে এই জালিয়াতি চক্রের জাল যে শুধু প্রোমোটার সিন্ডিকেট নয়, বরং প্রশাসনের অন্দরমহল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, ইডির এই তালিকায় থাকা প্রোমোটার ও পুলিশ কর্তার জল কতদূর গড়ায়।