ফ্ল্যাটে মাটির ঝঞ্ঝাট শেষ! ঘরের বাতাস খাঁটি রাখতে আজই আনুন মাটি ছাড়া বাড়া এই ৫ গাছ

ইট-কাঠ-পাথরের শহরে এক চিলতে সবুজের ছোঁয়া পেতে কার না মন চায়! আজকাল শহুরে জীবনের ব্যস্ততার মধ্যেও ঘরবাড়িকে সজীব ও প্রাণবন্ত রাখতে ‘ইনডোর গার্ডেনিং’ বা ঘরের ভিতরে বাগান করার ট্রেন্ড দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে। তবে বিপত্তি বাঁধে অন্য জায়গায়। ছোট ফ্ল্যাট, জায়গার অভাব আর সবচেয়ে বড় কথা—মাটি ব্যবহারের ঝক্কি ও নোংরা হওয়ার ভয়ে অনেকেই পিছিয়ে যান।

কিন্তু আপনি কি জানেন, গাছ লাগানোর জন্য মাটির প্রয়োজন সবসময় বাধ্যতামূলক নয়? মাটি ছাড়াই শুধুমাত্র জল, নুড়িপাথর কিংবা স্রেফ বাতাসের ওপর ভর করেই দারুণভাবে বেঁচে থাকতে পারে বেশ কিছু ইনডোর প্ল্যান্ট। এই আধুনিক ও ঝঞ্ঝাটহীন পদ্ধতিকে বলা হয় ‘হাইড্রোপনিক্স’। সামান্য যত্নেই এই গাছগুলি আপনার ড্রয়িং রুম বা অফিসের ভোল বদলে দিতে পারে।

আজকের প্রতিবেদনে চিনে নিন এমন ৫টি ইনডোর প্ল্যান্ট, যা মাটি ছাড়াই আপনার ঘরকে করে তুলবে স্বর্গীয়।

১. মানি প্ল্যান্ট (Money Plant)
ইনডোর প্ল্যান্টের তালিকায় চিরকালই শীর্ষে থাকে মানি প্ল্যান্ট। মাটি ছাড়াই স্রেফ একটি জলভর্তি কাঁচের বোতল বা জারে এই গাছ অনায়াসে বড় হয়ে ওঠে। এর সবুজ লতা ঘরের দেওয়ালে বা জানালায় এক অদ্ভুত নান্দনিকতা এনে দেয়। এই গাছের জন্য খুব বেশি আলোর প্রয়োজন হয় না। সপ্তাহে বা ১০ দিনে একবার বোতলের জল বদলে দিলেই এটি মাসের পর মাস সতেজ থাকে।

২. লাকি ব্যাম্বু (Lucky Bamboo)
বাস্তুশাস্ত্র এবং ফেং শুই—উভয় মতেই লাকি ব্যাম্বুকে অত্যন্ত শুভ ও পজিটিভ শক্তির উৎস বলে মনে করা হয়। একটি স্বচ্ছ কাঁচের পাত্রে সামান্য জল আর কিছু রঙিন নুড়িপাথর দিয়ে এই গাছ ঘরের যেকোনো টেবিলে রেখে দেওয়া যায়। এর জন্য বাড়তি কোনো খাটাখাটনির প্রয়োজন নেই, শুধু পাত্রের জলের স্তর ঠিক থাকলেই এটি চনমনে থাকে।

৩. স্পাইডার প্ল্যান্ট (Spider Plant)
ঘর সাজানোর পাশাপাশি যদি ঘরের বাতাসকে বিষমুক্ত করতে চান, তবে স্পাইডার প্ল্যান্ট আপনার সেরা পছন্দ হতে পারে। নাসা-র স্বীকৃত সেরা বায়ুশোধক উদ্ভিদের মধ্যে এটি অন্যতম। লম্বা ও ছড়ানো সবুজ পাতার এই গাছটি টবের মাটি ছাড়াই শুধু জলেই দারুণভাবে বংশবৃদ্ধি করে। বেডরুম বা বসার ঘরের কম আলোতেও এটি খুব ভালোভাবে মানিয়ে নেয়।

৪. এয়ার প্ল্যান্ট (Air Plant)
নামের মতোই এর কাজ। এই গাছটির বেঁচে থাকার জন্য মাটি তো দূর, এক ফোঁটা জলের পাত্রেরও প্রয়োজন হয় না। এরা বাতাস থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ও পুষ্টি উপাদান শুষে নেয়। কোনো সুন্দর কাঠের টুকরো, দেওয়াল বা শোপিসের ওপর এদের ঝুলিয়ে রাখা যায়। সপ্তাহে কেবল দু-একবার স্প্রে বোতল দিয়ে হালকা জল ছিটিয়ে দিলেই এরা খুশি।

৫. পোথোস (Pothos)
মানি প্ল্যান্টেরই এক বিশেষ প্রজাতি হলো পোথোস। এর ঘন ও আকর্ষক পাতাগুলো ঘরের কোণকে নিমেষের মধ্যে শান্ত ও সতেজ আমেজে ভরিয়ে দেয়। খুব কম আলো এবং এয়ার কন্ডিশনড ঘরেও পোথোস জেলের মধ্যে চমৎকারভাবে বাড়ে। রক্ষণাবেক্ষণে একদমই সময় দিতে হয় না বলে চাকরিজীবীদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয়।

মাটির ঝক্কি এড়িয়ে কেন রাখবেন এই গাছগুলো?
পরিচ্ছন্নতা: মাটিতে গাছ লাগালে ঘর নোংরা হওয়ার বা জল চুইয়ে মেঝে নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে। মাটিবিহীন গাছে সেই ঝামেলা এক শতাংশও নেই।

জায়গার সাশ্রয়: ছোট ফ্ল্যাট বা স্টাডি টেবিলের সামান্য কোণেই এদের সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখা যায়।

স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ: এই গাছগুলির বেশির ভাগই ঘরের ভিতরের ক্ষতিকর দূষিত কণা ও কার্বন ডাই অক্সাইড দূর করে বাতাসকে বিশুদ্ধ রাখে।

মাটিবিহীন গাছের যত্ন নেওয়ার সহজ কিছু টিপস
এই গাছগুলির পরিচর্যা অত্যন্ত সহজ হলেও, কয়েকটি বিষয়ে একটু নজর রাখা ভালো:

জল পরিবর্তন: যে গাছগুলি জলে রাখা হয়েছে, সেগুলির জল অন্তত সপ্তাহে একবার বা ১০ দিনে একবার বদলে ফেলা জরুরি। এতে শিকড়ে শ্যাওলা জমে না।

আলোর ভারসাম্য: এদের সরাসরি কড়া রোদে রাখবেন না। ঘরের এমন জায়গায় রাখুন যেখানে মৃদু বা পরোক্ষ প্রাকৃতিক আলো পাওয়া যায়।

বাড়তি পুষ্টি: গাছের বৃদ্ধি আরও দ্রুত এবং পাতাগুলি চকচকে করতে চাইলে মাসে একবার বা দু’বার জলে সামান্য পরিমাণ লিকুইড ফার্টিলাইজার বা তরল পুষ্টি উপাদান মিশিয়ে দিতে পারেন।

শিকড় পরিষ্কার: জল বদলানোর সময় গাছের শিকড়গুলো হালকা করে ধুয়ে নিলে কোনো রকম ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ হয় না।