পকেটে টান পড়বে বাসিন্দাদের? ডিজেল ক্রয়ে সরকারের নতুন নিয়মে চিন্তিত নয়ডার আবাসন ও শিল্প সংস্থা

কেন্দ্রীয় সরকারের জারি করা ডিজেল ক্রয় সংক্রান্ত নতুন নিয়মাবলী নয়ডা, গ্রেটার নয়ডা এবং গ্রেটার নয়ডা পশ্চিমের আবাসিক ও শিল্পমহলে প্রবল উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, এখন থেকে যে কোনো গ্রাহক খুচরা পেট্রোল পাম্প থেকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০০ লিটারের বেশি ডিজেল কিনতে পারবেন না। বর্তমানে এই নিয়মটি ৯০ দিনের জন্য কার্যকর করা হয়েছে।
কেন চিন্তিত সোসাইটি ও শিল্প ইউনিটগুলো?
গৌতম বুদ্ধ নগরে ৪০০-এরও বেশি বড় আবাসন প্রকল্প রয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ব্যাকআপের জন্য বড় আকারের ডিজেল জেনারেটর (DG Set) ব্যবহৃত হয়। সোসাইটি কর্তৃপক্ষের মতে:
প্রয়োজনীয়তার ঘাটতি: বড় সোসাইটিগুলোতে জেনারেটর একটানা চালানোর জন্য ২০০ লিটারের চেয়ে অনেক বেশি ডিজেল প্রয়োজন হয়। এই সীমাবদ্ধতা বিদ্যুৎ ব্যাকআপ ব্যবস্থাকে চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে।
খরচ বৃদ্ধি: যদি সোসাইটিগুলো খুচরা পাম্পের পরিবর্তে বাণিজ্যিক পাইকারি ডিজেল কিনতে বাধ্য হয়, তবে তাদের খরচ লিটার প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাবে।
বাসিন্দাদের ওপর প্রভাব: রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও পাওয়ার ব্যাকআপ ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছেন অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (AOA) কর্মকর্তারা।
শিল্প ও আবাসন মহলে অস্থিরতা
শিল্প ইউনিটগুলোর পাশাপাশি আবাসন সমিতিগুলো এখন এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজছে। বিল্ডার এবং AOA কর্মকর্তারা খুব শীঘ্রই সম্মিলিত সভার ডাক দিয়েছেন যাতে বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত না হয় এবং বিকল্প কোনো সমাধান বের করা যায়।
সরকারের অবস্থান
সরকারের দাবি, বাজারে ডিজেলের ভারসাম্যপূর্ণ সরবরাহ বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য কালোবাজারি রোধ করতেই এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা পাম্প থেকে ডিজেল কেনার ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ মূলত বাণিজ্যিক সংস্থা ও বৃহৎ ব্যবহারকারীদের পাইকারি কেনাকাটায় নিয়ন্ত্রণ আনতে সাহায্য করবে।
তবে স্থানীয়দের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় আবাসন সোসাইটিগুলোতে চরম ভোগান্তি দেখা দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, শিল্প ও আবাসন সংস্থাগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে সরকার কোনো ছাড় দেয় কি না, নাকি বাসিন্দাদের বর্ধিত খরচ বহন করার মানসিক প্রস্তুতি নিতে হয়।