CUET PG পরীক্ষার নর্মালাইজেশন নিয়ে বড় সাফাই NTA-র! জানানো হলো কেন হয়নি কোনো স্কোর পরিবর্তন

সোশ্যাল মিডিয়ায় CUET PG ২০২৬ পরীক্ষার স্কোর স্বাভাবিকীকরণ (স্কোর নর্মালাইজেশন) নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে মুখ খুলল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। এনটিএ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই পরীক্ষায় কোনো ধরনের স্কোর নর্মালাইজেশন প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হয়নি। সকল পরীক্ষার্থীকে তাদের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই সমানভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

কেন পুনঃপরীক্ষার প্রয়োজন হয়েছিল?
এনটিএ-এর স্পষ্টীকরণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে তুরা (মেঘালয়)-এর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং কিছু বিদেশী কেন্দ্রে নিরাপত্তার অভাবের কারণে ২৮টি বিষয়ের ৫৬৫ জন পরীক্ষার্থী নির্ধারিত দিনে পরীক্ষা দিতে পারেননি। পরীক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং তাদের ক্ষতিপূরণ করতে এনটিএ ওই ৫৬৫ জনের জন্য ২৯ ও ৩০ মার্চ পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করেছিল। এটি সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখেই করা হয়েছে।

পরিসংখ্যানগতভাবে নর্মালাইজেশন কেন সম্ভব নয়?
এনটিএ জানিয়েছে যে মূল পরীক্ষা এবং পুনঃপরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সংখ্যার মধ্যে বিশাল ফারাক থাকায় কোনো প্রকার পরিসংখ্যানগত স্বাভাবিকীকরণ করা অসম্ভব। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী:

ইংরেজি: মূল পরীক্ষায় ১৬,০০০ জন এবং পুনঃপরীক্ষায় মাত্র ১২০ জন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান: মূল পরীক্ষায় ২৬,০০০ জন এবং পুনঃপরীক্ষায় প্রায় ১০০ জন।

ইতিহাস: মূল পরীক্ষায় ১৩,৬০০ জন এবং পুনঃপরীক্ষায় ৮০ জনেরও কম।

এনটিএ-এর মতে, হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর তুলনায় মাত্র ১০০ বা তার কম পরীক্ষার্থীর ক্ষেত্রে নর্মালাইজেশন প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা পরিসংখ্যানগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ নয়।

কাঠিন্যের মান ও স্বচ্ছতা
পরীক্ষার্থীদের মনে যে প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছিল যে পুনঃপরীক্ষায় বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, তা সরাসরি নাকচ করেছে এনটিএ। সংস্থাটি জানিয়েছে:
১. পুনঃপরীক্ষায় যে প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা বিষয় বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তৈরি এবং এর কাঠিন্যের মাত্রা মূল পরীক্ষার মতোই ছিল।
২. কোনো পরীক্ষার্থীকেই বাড়তি কোনো সুবিধা দেওয়া হয়নি, মূল ও পুনঃপরীক্ষার্থী উভয়কেই একই পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
৩. প্রতিটি পরীক্ষার্থীর স্কোর ‘পরম নম্বর’ (Absolute Marks)-এর ভিত্তিতে গণনা করা হয়েছে, যা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে।

এনটিএ পুনরায় তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে যে, তারা স্বচ্ছ ও পরীক্ষার্থী-কেন্দ্রিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর। শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য বা গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এনটিএ।