ভুল দিনে ঠাকুরঘর পরিষ্কার করলেই রুষ্ট হন লক্ষ্মী! সংসারে কাঙালপনা রুখতে আজই জানুন শাস্ত্রের এই কড়া নিয়ম

সনাতন ধর্মে ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর সবসময়ই বিশেষ জোর দেওয়া হয়। আর যখন বিষয়টি ঠাকুরঘরের হয়, তখন পবিত্রতার গুরুত্ব বেড়ে যায় বহুগুণ। মনে করা হয়, বাড়িতে ঠাকুরঘর বা পুজোঘর হলো পজিটিভ শক্তির প্রধান উৎস। ভক্তিভরে প্রতিদিনের নিত্যপুজোই সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখে।
তবে বাস্তু ও জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, ঠাকুরঘর পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কড়া কিছু নিয়ম রয়েছে। অজান্তে করা সামান্য একটি ভুলেই রুষ্ট হতে পারেন দেবী লক্ষ্মী, যার জেরে পরিবারে নেমে আসতে পারে চরম আর্থিক সংকট ও অশান্তি। জেনে নিন ঠাকুরঘর পরিষ্কার করার সময় কোন কোন নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
১. ঠাকুরঘর পরিষ্কারের শ্রেষ্ঠ দিন কোনটি?
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, প্রতি শনিবার ঠাকুরঘর পরিষ্কার করা সবথেকে শুভ ও শ্রেষ্ঠ বলে মনে করা হয়। শনিবার এই কাজ করলে বাড়িতে পবিত্র ভাব এবং শুদ্ধতা বজায় থাকে। এর ফলে গৃহস্থের নেতিবাচক শক্তি দূর হয় এবং পরিবারের সদস্যদের উন্নতি ও শ্রীবৃদ্ধি ঘটে দ্রুত গতিতে।
২. বিগ্রহ রাখার ক্ষেত্রে এই ভুলটি ভুলেও নয়
সিংহাসন পরিষ্কার করার সময় অনেকেই অজ্ঞতাবশত ঠাকুরের মূর্তি বা ছবি সরাসরি মাটিতে রেখে দেন। শাস্ত্রে এটিকে দেবতাকে চরম অবমাননা করার শামিল বলে গণ্য করা হয়েছে। বিগ্রহ নামানোর আগে মাটিতে একটি শুদ্ধ পরিষ্কার কাপড় বা কাঠের জলচৌকি বিছিয়ে নিন, তার ওপর পরম শ্রদ্ধায় বিগ্রহগুলি রাখুন। দেবতাকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়ে তবেই পুজোর স্থান পরিষ্কার করা উচিত।
৩. এই বিশেষ তিথিগুলোতে ভুলেও হাত দেবেন না
শাস্ত্র মতে, শুভ তিথি যেমন—একাদশী, পূর্ণিমা বা অমাবস্যার দিনে ঠাকুরঘর পরিষ্কার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই বিশেষ দিনগুলোতে ধোয়া-মোছা বা ঘষাঘষি করলে মা লক্ষ্মী অত্যন্ত রুষ্ট হন। ফলে সংসারে অভাব-অনটন দেখা দিতে পারে। তাই কোনো রকম অশুভ প্রভাব এড়াতে এই তিথিগুলো বাদ দিয়ে অন্য দিনে পরিষ্কারের কাজ সারুন।
৪. গঙ্গাজলের ম্যাজিক ছোঁয়া
প্রতিদিন পুজোর আগে এবং ঘর পরিষ্কারের পর অবশ্যই গোটা ঘরে ও সিংহাসনে গঙ্গাজল ছিটিয়ে দিন। গঙ্গাজলের পবিত্র স্পর্শে সমস্ত জায়গা এবং বিগ্রহ শুদ্ধ হয়ে ওঠে। মনে রাখবেন, শুদ্ধ মনে পুজো করলে তবেই দেবতারা প্রসন্ন হন এবং পরিবারের মঙ্গল হয়।
৫. নোংরা প্রদীপে পুজো দেওয়া পাপ!
ঠাকুরের সামনে প্রতিদিন যে প্রদীপ জ্বালানো হয়, তা রোজ ভালো করে পরিষ্কার করা উচিত। আগের দিনের পোড়া সলতে বা নোংরা প্রদীপে পুনরায় কখনও নতুন করে আলো জ্বালবেন না। প্রতিদিন পরিষ্কার প্রদীপে নতুন সলতে দিয়ে পুজো দিলে পরিবারের সব বাধা-বিপত্তি ও অমঙ্গল দূর হয়।
৬. কর্পূরের ধোঁয়ায় দূর হবে বাস্তুদোষ
প্রতিদিন সন্ধ্যায় আরতির সময় ঠাকুরঘরে কর্পূর জ্বালানোর অভ্যাস করুন। কর্পূরের পবিত্র ধোঁয়া ও সুগন্ধ ঘরের সমস্ত নেতিবাচক বা নেগেটিভ শক্তিকে নিমেষে দূর করতে দারুণ সাহায্য করে। এতে বাড়িতে একটি স্বর্গীয় ও ইতিবাচক আবহাওয়া তৈরি হয়, যা পরিবারের সদস্যদের মনকে শান্ত ও আধ্যাত্মিকতায় ভরিয়ে তোলে।
৭. স্নান ও আসনের নিয়ম
স্নান না সেরে ভুলেও কখনও ঠাকুরঘর স্পর্শ করবেন না বা পুজোর জোগাড় করতে যাবেন না। শরীর ও পোশাক সম্পূর্ণ শুদ্ধ হওয়া জরুরি। এছাড়া পুজো করার সময় সরাসরি খালি মেঝেতে বসবেন না। মেঝেতে বসার জন্য সবসময় কুশ, কম্বল বা নরম কুশন ব্যবহার করুন। সঠিক নিয়ম মেনে ভক্তিভরে আরাধনা করলে সংসারে চিরকাল সুখ ও শান্তি বিরাজ করে।