ঘরে রাখা পুরোনো সোনাই এবার তুরুপের তাস! গয়নার দামে রেকর্ড বৃদ্ধির মাঝেই কপাল খুলছে সাধারণ মানুষের?

সোনার ওপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পরেই ভারতের গহনার বাজারে আমূল পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। হু হু করে বাড়তে থাকা সোনার দাম সাধারণ মধ্যবিত্তের নাগালে থাকলেও, বিশেষজ্ঞরা এক চমকপ্রদ তথ্য দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভারতীয় পরিবারগুলো এবার তাদের ভল্টে জমা রাখা পুরোনো সোনা বা গয়না বের করে তা বিক্রি করতে বা নতুন গয়নার সঙ্গে বিনিময় করতে উৎসাহিত হবে। এর ফলে বাজারে ‘রিসাইকেল্ড’ বা পুনর্ব্যবহৃত সোনার জোগান এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যেতে পারে।
নতুন সোনার চাহিদা ১০-১৫% কমার আশঙ্কা
গহনা শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বাড়তি শুল্ক এবং আকাশছোঁয়া দামের কারণে নতুন সোনার চাহিদা আগামী দিনে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ভীমা জুয়েলার্সের চেয়ারম্যান বি. গোবিন্দন জানিয়েছেন, “সোনার দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষ এখন নতুন গয়না কেনার চেয়ে ঘরে থাকা পুরোনো গয়না ব্যবহার বা তা বদলে নতুন কিছু নেওয়ার দিকেই বেশি ঝুঁকবেন।” ফলে আগামী কয়েক মাস জুয়েলারি দোকানগুলোতে পুরোনো সোনা বিনিময়ের ধুম পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।
চোরাচালান ও ঋণের ঝুঁকি
ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সুরেন্দ্র মেহতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি জানান, শুল্ক বাড়লে দেশে সোনা চোরাচালান বা অবৈধ পথে সোনা প্রবেশের ঝুঁকি ১০০ থেকে ১২০ টন পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি, নগদের চাহিদা মেটাতে মানুষ এখন গয়না বিক্রির বদলে তার বিনিময়ে ‘গোল্ড লোন’ বা সোনার ঋণ নেওয়ার দিকেও বেশি ঝুঁকছেন।
পারিবারিক ভল্টে বন্দি ২৫,০০০ টন সোনা!
এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতীয় পরিবারগুলোর কাছে বর্তমানে প্রায় ২৫,০০০ টন সোনা মজুত রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ভাণ্ডার। এই বিশাল মজুতের একটি সামান্য অংশও যদি পুনর্ব্যবহারের মাধ্যমে মূল বাজারে চলে আসে, তবে ভারতের সোনা আমদানির ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমবে। এতে দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি (Current Account Deficit) কমবে এবং জাতীয় অর্থনীতি মজবুত হবে।
কম ক্যারেটের গয়নায় নজর
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার আমদানি ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে হলে ১৪-ক্যারেট এবং ৯-ক্যারেটের মতো কম ক্যারেটের গহনার প্রচার বাড়ানো প্রয়োজন। হোসে আলুক্কাসের চেয়ারম্যান ভার্গিস আলুক্কাস জানিয়েছেন, বর্তমান বাজারে বড় বড় জুয়েলারি চেইনগুলোর মোট বিক্রির প্রায় অর্ধেকই আসছে পুরোনো সোনা বিনিময়ের মাধ্যমে।
সব মিলিয়ে, সোনার দাম বাড়লেও তা একদিকে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে যেমন মূল্যবান করছে, অন্যদিকে ভারতের বিশাল মজুত সোনাকে সচল করার এক সুবর্ণ সুযোগও তৈরি করে দিচ্ছে। তবে চোরাচালান রুখতে প্রশাসন কতটা সক্রিয় থাকে, সেটাই এখন দেখার।