৬০ বছরের সুগ্রিমের প্রেমে পাগল তরুণী! পঞ্চায়েতের সালিশি সভাতেও হার মানল না প্রেম, তারপর যা ঘটল…

কথায় বলে, প্রেমের কোনো বয়স নেই। সেই প্রবাদকেই ফের একবার সত্যি প্রমাণ করল বিহারের কাটিহার জেলার এক অনন্য প্রেমকাহিনী। ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ সুগ্রিম পাসওয়ানের সঙ্গে তাঁর তরুণী প্রেমিকা ফুলকি দেবীর এই অসম বয়সের পরিণয় এখন নেট দুনিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। মণিহারি ব্লকের বাঘমারা পঞ্চায়েতের এই বিবাহিত দম্পতির ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল।

দুই বছরের গোপন প্রেম ও পঞ্চায়েতি বাধা
জানা গেছে, সুগ্রিম পাসওয়ান ও ফুলকি দেবীর মধ্যে গত দুই বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। লোকচক্ষুর আড়ালে শুরু হওয়া এই সম্পর্ক যখন জানাজানি হয়, তখন গোটা গ্রাম জুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। বিষয়টি শেষমেশ পৌঁছায় গ্রাম পঞ্চায়েত পর্যন্ত। অসম বয়সের এই সম্পর্ককে সমাজ সহজভাবে মেনে নিতে না পারায় ডাকা হয় সালিশি সভা। গ্রামবাসী ও পঞ্চায়েত সদস্যরা যুগলটিকে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে শুরু করেন।

“আমি নিজের ইচ্ছায় সুগ্রিমের সঙ্গে থাকতে চাই”
চাপের মুখেও মাথা নত করেননি ফুলকি দেবী। পঞ্চায়েতের সামনেই স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দেন, “আমি নিজের ইচ্ছায় সুগ্রিমকে ভালোবেসেছি। ওঁর সঙ্গেই সারা জীবন কাটাতে চাই। আমার ওপর কারও কোনো জোর নেই।” ফুলকির এই অনড় মনোভাব দেখে অবাক হয়ে যান খোদ পঞ্চায়েত প্রধানও। অন্যদিকে, সুগ্রিমও প্রকাশ্যে ফুলকির প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা স্বীকার করে নেন। শেষ পর্যন্ত প্রেমিক-প্রেমিকার একগুঁয়ে জেদের কাছে হার মানে পঞ্চায়েত। সামাজিক অশান্তি এড়াতে দু’জনের বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্দিরে শেহনাই ও সিঁদুরদান
এরপরই গ্রামের একটি স্থানীয় মন্দিরে পূর্ণ মর্যাদায় সম্পন্ন হয় বিয়ের আচার। বয়সের ব্যবধান ভুলে সুগ্রিম যখন ফুলকি দেবীর কপালে সিঁদুর পরিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত গ্রামবাসী ও আত্মীয়রা করতালিতে মন্দির প্রাঙ্গণ ভরিয়ে দেন। যারা একসময় এই সম্পর্কের বিরোধিতা করেছিলেন, তাঁরাই নবদম্পতিকে আশীর্বাদ করতে এগিয়ে আসেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
বিয়ের এই ভিডিও ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বলছেন, ভালোবাসা কোনো সীমানা বা বয়স মানে না— এই বিয়ে তারই উদাহরণ। আবার কেউ কেউ এই অসম বয়সের পরিণয় নিয়ে সমালোচনাও করেছেন। তবে সমস্ত বিতর্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কাটিহারের এই ‘নতুন দম্পতি’ এখন বেশ সুখে ঘরকন্না করছেন।