শুভেন্দুর এক সিদ্ধান্তে কাঁপছে আমলারা! এবার অনুমতি ছাড়াই জেলে ভরবে সিবিআই? রাজ্যজুড়ে তোলপাড়

রাজ্যের প্রশাসনিক স্তরে গেঁড়ে বসা দুর্নীতির ‘ঘুঘুর বাসা’ ভাঙতে এবার চরম পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এতদিন যে আইনি রক্ষাকবচ ব্যবহার করে দুর্নীতিগ্রস্ত আমলা ও আধিকারিকরা কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে বেঁচে ফিরছিলেন, এক কলমের খোঁচায় সেই প্রথা রদ করল বর্তমান বিজেপি সরকার। এখন থেকে রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোকে আর রাজ্য সরকারের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

তদন্তে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ সিবিআই-ইডি-কে
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগের তৃণমূল সরকার ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুর্নীতিগ্রস্ত আমলাদের বাঁচাতে ফাইল আটকে রাখতেন। বিশেষ করে শিক্ষা ও পুর নিয়োগ দুর্নীতির মতো বড় বড় কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্তদের আড়াল করার যে সংস্কৃতি চলে আসছিল, তা এবার বন্ধ হতে চলেছে। তিনি বলেন, “আমরা সিবিআই-কে তিনটি দপ্তরের দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে বিচারের অনুমোদন দিয়ে দিয়েছি। আইনের ফাঁক গলে আর কেউ বাঁচতে পারবে না।”

কাঠগড়ায় হেভিওয়েট আমলারা
রাজ্যপালের অনুমতি নিয়ে ইতিমধ্যেই চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় বিচার শুরুর ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে রয়েছে:

শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি: এসএসসির প্রাক্তন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিন্হা, প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য, সৌমিত্র সরকার, অশোক সাহা এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েটদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

পর্ণা বসু ও সমরজিৎ আচার্য: এসএসসির এই দুই প্রাক্তন প্রোগ্রাম অফিসারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগে বিচার চলবে।

শর্মিলা মিত্র: এসএসসির আরেক প্রাক্তন চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধেও বিচার চালানোর ছাড়পত্র মিলেছে।

রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে সাফ জানানো হয়েছে, সরকারি পদে থেকে অসৎ উপায়ে অন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন এই আধিকারিকরা। সিবিআই তদন্তের তথ্যে সন্তুষ্ট হয়েই রাজ্যপাল দুর্নীতি দমন আইনে এই বিচার প্রক্রিয়ায় সায় দিয়েছেন।

পুর নিয়োগ দুর্নীতি ও আইএএস অফিসার
পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির মামলাতেও সিবিআই-এর চার্জশিটে নাম ছিল আইএএস অফিসার জ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের। কিন্তু এতদিন রাজ্য সরকারের অনুমতি না মেলায় তাঁর বিরুদ্ধে ট্রায়াল শুরু করা যাচ্ছিল না। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই বাধা অপসারিত হওয়ায় এখন এই সমস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

প্রশাসনিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে দুর্নীতির তদন্তে অভাবনীয় গতি আসবে। যারা ভেবেছিলেন সরকারি পদের আড়ালে দুর্নীতি করে পার পাওয়া যাবে, তাঁদের জন্য এই পদক্ষেপ এক বড় সতর্কবার্তা।