রান্নাঘরে কি এবার ‘তেতো’ লাগবে মিষ্টি? চিনির রপ্তানি নিয়ে কেন্দ্রের কড়া সিদ্ধান্তে তোলপাড় বাজার!

জ্বালানি তেলের আকাশছোঁয়া দামের মাঝেই এবার আমজনতার হেঁশেলে বড়সড় টান পড়ার আশঙ্কা। দেশের বাজারে চিনির যোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে চিনি রপ্তানির (Sugar Export Ban) ওপর বড়সড় নিষেধাজ্ঞা জারি করল ভারত সরকার। বুধবার, ১৩ মে কেন্দ্রের তরফে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আপাতত চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিদেশ বিভুঁইয়ে চিনি পাঠানো বন্ধ রাখা হচ্ছে।
২০২৬ পর্যন্ত জারি থাকবে বিধিনিষেধ
সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই কড়া বিধিনিষেধ ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। উল্লেখ্য, ব্রাজিল-এর পরেই ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ। ফলে ভারতের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি পড়েছে বিশ্ববাজারে।
বিশ্ববাজারে দামের বিস্ফোরণ
ভারতের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ও সাদা চিনির দাম লাফিয়ে বেড়েছে। নিউ ইয়র্কে অপরিশোধিত চিনির ফিউচার মূল্য ২ শতাংশ এবং লন্ডনে সাদা চিনির মূল্য প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত রপ্তানি বন্ধ করায় এশিয়া ও আফ্রিকার বাজারগুলো এখন ব্রাজিল এবং থাইল্যান্ডের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হবে।
কেন এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত?
এর আগে কেন্দ্র সরকার চিনিকলগুলিকে ১৫.৯ লক্ষ মেট্রিক টন চিনি রপ্তানির অনুমতি দিলেও পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে। পরপর দুই বছর আখের ফলন আশঙ্কাজনকভাবে কম হওয়ায় এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর কথা ভেবেই এই পিছুটান। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘এল নিনো’ (El Nino)-র প্রভাবে চলতি বছরে বর্ষা দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বর্ষা ঠিকমতো না হলে আগামী মরশুমে আখের উৎপাদন আরও কমবে, যা আগেভাগেই আঁচ করতে পেরেছে কেন্দ্র।
রপ্তানির বর্তমান চিত্র ও ছাড়
তথ্য বলছে, সরকার অনুমোদিত ১.৫৯ মিলিয়ন মেট্রিক টনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ০.৮ মিলিয়ন টনের চুক্তি শেষ হয়েছে এবং ০.৬ মিলিয়ন টন রপ্তানিও হয়ে গিয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিচ্ছে কেন্দ্র। বিজ্ঞপ্তির আগেই যদি পণ্য জাহাজে বোঝাই শুরু হয়ে থাকে কিংবা শিপিং বিল তৈরি হয়ে কোনো জাহাজ বন্দরে পৌঁছে যায়, তবে সেই চিনি রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে।
উৎসবের মরশুমের আগে সরকারের এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ঘরোয়া বাজারে চিনির দাম কতটা স্থিতিশীল রাখতে পারে, এখন সেটাই দেখার।