হেলমেট নেই তো রেহাইও নেই! শুভেন্দুর ‘দাদাগিরি’তে কাঁপছে কলকাতা, ২ দিনে যা হলো জানলে বাইক বের করতে ভয় পাবেন!

কথা কম, কাজ বেশি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নিজের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রমাণ দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। তোলাবাজি দমন থেকে শুরু করে বেআইনি নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেওয়া— একের পর এক কড়া সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিনি। এবার তাঁর নিশানায় শহরের ট্রাফিক আইন। বিশেষ করে বাইক আরোহীদের হেলমেটহীন দাপট রুখতে রণমূর্তি ধারণ করেছে নতুন সরকার।

হেলমেটহীন দাপটে ইতি
কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে হেলমেট পরা নিয়ে বারবার সচেতন করা হলেও, এক শ্রেণির বাইক চালকের মধ্যে নিয়ম ভাঙার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে রাতের শহরে হেলমেট ছাড়াই দ্রুত গতিতে বাইক চালানো একপ্রকার রেওয়াজে পরিণত হয়েছিল। অভিযোগ উঠত, পুলিশ দেখেও অনেক সময় ব্যবস্থা নেয় না। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আইন ভাঙলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।

যৌথ অভিযানের নির্দেশ
ক্ষমতায় আসার পরই ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ জোর দিয়েছে বিজেপি সরকার। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে:

বাইক চালানোর সময় হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক।

নিয়ম কার্যকর করতে ট্রাফিক বিভাগ ও স্থানীয় থানাগুলিকে যৌথভাবে রাস্তায় নামতে হবে।

প্রতিদিনের অভিযানের রিপোর্ট সরাসরি সংগ্রহ করবেন এডিজি (ট্রাফিক)।

নির্দেশিকার মূল কথা একটাই— কোনো অজুহাতেই যেন হেলমেট ছাড়া কেউ রাস্তায় বাইক না চালান, তা নিশ্চিত করতে হবে পুলিশকে।

৪৮ ঘণ্টায় ২,৬৬১টি মামলা!
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার রেশ কাটতে না কাটতেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে কলকাতা পুলিশ। গত সোম ও মঙ্গলবার শহরজুড়ে চালানো ঝটিকা অভিযানে রীতিমতো রেকর্ড তৈরি হয়েছে। হেলমেট না পরার অভিযোগে মাত্র দুই দিনে ২ হাজার ৬৬১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নতুন সরকারের এই ‘অ্যাকশন মোড’ দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করতে রাজি নন শুভেন্দু অধিকারী। প্রশাসনিক সূত্রের বার্তা খুব পরিষ্কার— “আইন মানো, সুখে থাকো।” নাহলে পুলিশের মামলার পাশাপাশি দিতে হবে চড়া জরিমানা। সরকারের এই কড়াকড়িতে বাইক চালকদের মধ্যে যে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।