১৭ মে থেকে বদলে যাচ্ছে ভাগ্য! শুরু হচ্ছে পবিত্র ‘মলমাস’, এই ৫টি কাজ করলেই হতে পারে চরম বিপদ!

সনাতন ধর্মে প্রতি তিন বছর অন্তর এক অত্যন্ত বিশেষ এবং আধ্যাত্মিক গুরুত্বসম্পন্ন মাসের আগমন ঘটে। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, এই মাসটি ভগবান শ্রীবিষ্ণুর আশীর্বাদধন্য। কেউ একে ডাকেন ‘পুরুষোত্তম মাস’ নামে, কারোর কাছে এটি ‘অধিকমাস’ বা ‘মলমাস’। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ১৭ মে থেকে এই পবিত্র মাসের সূচনা হতে চলেছে, যা চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত।

কেন একে ‘পুরুষোত্তম মাস’ বলা হয়?
জ্যোতিষশাস্ত্রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সূর্য ও চন্দ্রের গতির পার্থক্যের কারণে প্রতি তিন বছর অন্তর ক্যালেন্ডারে একটি অতিরিক্ত মাস যুক্ত হয়। পুরাণের কাহিনী অনুসারে, এই মাসটির কোনো অধিপতি ছিল না বলে এটি একসময় ‘অস্পৃশ্য’ বা অবহেলিত ছিল। তখন স্বয়ং ভগবান শ্রীবিষ্ণু এই মাসের দায়িত্ব নেন এবং নিজের ‘পুরুষোত্তম’ নামেই এর নামকরণ করেন। মনে করা হয়, এই এক মাসে নামজপ ও পুণ্যকর্ম করলে সারা বছরের সমান ফল লাভ করা যায়।

সাবধান! এই ৫টি কাজ করলেই নেমে আসবে দুর্ভাগ্য
পুণ্য অর্জনের সেরা সময় হলেও, শাস্ত্রে এই এক মাস বিশেষ কিছু কাজের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, এই সময়ে নিয়ম ভাঙলে জীবনের শ্রীহানি হতে পারে।

মাঙ্গলিক কাজ বন্ধ: মলমাসে বিয়ে, অন্নপ্রাশন, উপনয়ন (পৈতে) বা বাগদানের মতো শুভ কাজ একেবারেই নিষিদ্ধ। মনে করা হয়, এই সময়ে করা শুভ কাজের সুফল মেলে না।

নতুন ব্যবসায় বাধা: আপনি কি নতুন কোনো ব্যবসার পরিকল্পনা করছেন? তবে ১৫ জুন পর্যন্ত ধৈর্য ধরুন। মলমাসের সময় নতুন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান চালু করা বা বড় বিনিয়োগে লোকসানের আশঙ্কা থাকে।

গৃহপ্রবেশে মানা: নতুন বাড়িতে প্রবেশ বা গৃহ নির্মাণের ভিত পুজো করার জন্য এই সময়টি অশুভ। শাস্ত্র মতে, এই সময়ে নতুন ঘরে প্রবেশ করলে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বাড়তে পারে।

খাদ্যাভ্যাসে বদল: এই মাসের প্রধান শর্ত হলো সংযম। আমিষ খাবার, মদ্যপান এমনকি পেঁয়াজ-রসুনের মতো তামসিক খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। যতটা সম্ভব সাত্ত্বিক জীবন যাপন করাই শ্রেয়।

বিলাসিতা বর্জন: সোনা, হিরে, নতুন গাড়ি বা দামি কোনো শৌখিন বস্তু কেনার জন্য মলমাসকে অশুভ ধরা হয়। আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য এই সময়টি শ্রেষ্ঠ হলেও জাগতিক বিলাসিতার জন্য নয়।

সৌভাগ্য ফেরাতে কী করবেন?
নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এই সময়টি আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য সুবর্ণ সুযোগ। শাস্ত্রবিদদের মতে, এই এক মাস নিয়মিত শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, বিষ্ণু সহস্রনাম জপ এবং অভাবী মানুষকে অন্ন ও বস্ত্র দান করলে জীবনের বড় বড় বাধা কেটে যায়। আগামী ১৬ জুন থেকে পুনরায় স্বাভাবিক শুভ সময় ফিরে আসবে। তাই এই কদিন সংযম আর ভক্তির মাধ্যমেই কাটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।