শরীরে বিষ না কি অন্য কিছু? মুলায়ম-পুত্র প্রতীকের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর মোড়

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে শোকের ছায়া। সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মুলায়ম সিং যাদবের কনিষ্ঠ পুত্র এবং বিজেপি নেত্রী অপর্ণা যাদবের স্বামী প্রতীক যাদবের আচমকা প্রয়াণে দানা বাঁধছে একগুচ্ছ প্রশ্ন। বুধবার ভোরে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে লখনউয়ের সিভিল হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে আসলেও তাঁর এই মৃত্যু নিয়ে দানা বেঁধেছে রহস্য।
মৃত্যুর নেপথ্যে ‘সাইলেন্ট কিলার’? প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, প্রতীকের শরীরের নীচের অংশে একটি রক্ত জমাট (Blood Clot) তৈরি হয়েছিল। সেই জমাট বাঁধা রক্ত ধমনীর মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছে গিয়ে রক্ত চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করে। চিকিৎসকদের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘পালমোনারি এম্বোলিজ়ম’। এই জটিলতার কারণেই তাঁর শ্বাসপ্রশ্বাস এবং হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে যায়, যার ফলশ্রুতি হিসেবে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় প্রতীকের।
লখনউয়ের চিকিৎসক রুচিতা শর্মা জানিয়েছেন, প্রতীক যাদব দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ রক্তচাপ এবং ফুসফুসজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। কয়েকদিন আগেই শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তাঁর শরীরে পালমোনারি এম্বোলিজম ধরা পড়েছিল। তখন থেকেই তাঁকে ব্লাড থিনার বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ দেওয়া হচ্ছিল।
বিষক্রিয়ার জল্পনা ও বিস্ফোরক দাবি বুধবার ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে প্রতীকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই লখনউ জুড়ে বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর জল্পনা শুরু হয়। এরই মাঝে সমাজবাদী পার্টির নেতা রবিদাস মেহরোত্রা বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন। তাঁর মতে, প্রতীকের মৃত্যু স্বাভাবিক নয় এবং তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে অনেকে দাবি করছেন। তিনি এমনকি বিষপ্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। যদিও পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও এই রাজনৈতিক দাবির স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ দেয়নি।
ভিসেরা রিপোর্টের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা অখিলেশ যাদবের সৎ ভাই প্রতীকের মৃত্যু কি নিছকই দুর্ঘটনা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। ময়নাতদন্তের সময় তাঁর হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভিসেরা রিপোর্টের জন্য শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও দেহরস পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সমাজবাদী পার্টির অন্দরমহল থেকে শুরু করে লখনউয়ের রাজনৈতিক অলিন্দ— প্রতীকের এই অকাল মৃত্যুতে আপাতত সব মহলেই গুঞ্জন ও শোকের আবহ।