রক্তাক্ত ফিলিপাইনের পার্লামেন্ট! গ্রেফতারি এড়াতে খোদ সিনেটরের তাণ্ডব? কাঁপছে গোটা দেশ

বুধবার এক নজিরবিহীন ও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল ফিলিপাইনের পার্লামেন্ট। তপ্ত বাক্যবিনিময় নয়, বরং খোদ দেশের সিনেট চত্বর কেঁপে উঠল মুহুর্মুহু গুলির শব্দে। হঠাৎ শুরু হওয়া এই গোলাগুলিতে চারদিকে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে বিদেশি কূটনীতিক থেকে শুরু করে পার্লামেন্ট কর্মীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন। তবে এই গুলির লড়াইয়ের নেপথ্যে উঠে আসছে এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক নাটক।
কেন রণক্ষেত্র সংসদ ভবন?
আন্তর্জাতিক মহলের দাবি, এই রক্তক্ষয়ী কাণ্ডের কেন্দ্রে রয়েছেন সিনেটর রোনাল্ড দেলা রোসা। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই নেতা একসময় ফিলিপাইনের বিতর্কিত ‘মাদকবিরোধী অভিযান’-এর প্রধান কম্যান্ডার ছিলেন। সেই অভিযানে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (ICC) তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর গ্রেফতারির আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছিল। জল্পনা ছড়িয়েছে যে, আইসিসি-র হাতে ধরা পড়া এড়াতেই নিজের মিত্রদের মাধ্যমে এই অস্থিরতা তৈরি করেছেন খোদ সিনেটর।
ফেসবুক লাইভে আর্তনাদ
গুলি চলার কিছুক্ষণ আগেই ৬৪ বছর বয়সী দেলা রোসা ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে অত্যন্ত বিধ্বস্ত অবস্থায় তাঁকে বলতে শোনা যায়, “যেকোনো মুহূর্তে আমাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। আমি আপনাদের কাছে আবেদন করছি, দয়া করে সাহায্য করুন। আর কোনো ফিলিপিনোকে যেন হেগের (আইসিসি সদর দপ্তর) কারাগারে নিয়ে যেতে না পারে।” বর্তমানে তিনি সিনেট কার্যালয়ের ভেতরেই আত্মগোপন করে রয়েছেন বলে খবর।
জনতাকে রাস্তায় নামার ডাক
শুধুমাত্র আকুতি নয়, রোনাল্ড দেলা রোসা তাঁর সমর্থকদের রাস্তায় নেমে আসার এবং আইসিসি-র কাছে তাঁর হস্তান্তর ঠেকানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এর ফলে ফিলিপাইনের রাজপথে নতুন করে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সাবেক প্রেসিডেন্টের আমলে চালানো সেই মাদকবিরোধী অভিযানের ছায়া আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে ফিলিপাইনকে। এখন দেখার, আন্তর্জাতিক আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করতে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেয়, নাকি সিনেটরের এই ‘বিদ্রোহ’ দেশটিকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো। পরবর্তী আপডেট পেতে নজর রাখুন আমাদের পেজে।