নির্বাচন কমিশনের কোপে ‘বাংলা পক্ষ’! গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের জামিন না কি জেল? শেষ মুহূর্তের রোমহর্ষক আপডেট

নির্বাচন কমিশনের কড়া পদক্ষেপের পর বাংলা পক্ষের গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের আইনি লড়াইয়ে এক নাটকীয় মোড় এল। কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই তাঁর জামিন নিয়ে চলছিল আইনি লড়াই। বুধবার আদালতের শুনানিতে এই হাই-প্রোফাইল মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়ে ছিল টানটান উত্তেজনা। তবে শেষ পর্যন্ত আদালত যা জানাল, তাতে গর্গ অনুগামীদের মধ্যে দেখা গিয়েছে উদ্বেগের ছায়া।
নির্বাচন কমিশনের নালিশ ও পুলিশের সক্রিয়তা: ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে, যখন নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগ ছিল, তাঁর বেশ কিছু মন্তব্য ও কার্যকলাপ নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। কমিশনের এই অভিযোগ পাওয়ার পর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করেনি কলকাতা পুলিশ। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে হেফাজতে নেওয়া হয়।
আদালতে আজ যা ঘটল: বুধবার আদালতে পেশ করা হলে গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা জামিনের জন্য জোরালো সওয়াল করেন। তাঁদের দাবি ছিল, এই গ্রেফতারি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা জামিনযোগ্য। অন্যদিকে, পুলিশ ও কমিশনের আইনজীবীরা পাল্টা যুক্তি দেন যে, তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।
উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানির পর আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, গর্গ চট্টোপাধ্যায়ের জামিনের আর্জি এই মুহূর্তে গ্রাহ্য করা সম্ভব নয়। বরং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাঁকে পুলিশি হেফাজতেই থাকতে হচ্ছে।
বাংলা পক্ষের তীব্র ক্ষোভ: আদালতের এই রায়ের পর বাংলা পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, বাংলার কন্ঠ রোধ করার জন্যই সুপরিকল্পিতভাবে তাঁদের নেতাকে হেনস্থা করা হচ্ছে। যদিও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন মেনেই সমস্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তদন্তে নয়া মোড়? গর্গ চট্টোপাধ্যায়কে নিজেদের হেফাজতে পেয়ে পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে তাঁর পিছনে আর কারা রয়েছেন এবং এই ধরণের মন্তব্যের উৎস কী। কমিশনের নজরদারিতে থাকা এই মামলায় আগামী ১৬ মে-র মধ্যে পুলিশকে তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে হতে পারে। তিলতিল করে জমানো এই রহস্য শেষ পর্যন্ত কোন রাঘববোয়ালের নাম সামনে আনে, এখন সেটাই দেখার।
ডেইলহান্ট (DailyHunt) বিশেষ প্রতিবেদন।