শিক্ষা থেকে পুরসভা—এবার ছাড় পাবে না কেউ! দুর্নীতি দমনে ‘বুলডোজার’ অ্যাকশনের হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক অলিন্দে এবার বড়সড় রদবদলের ইঙ্গিত। রাজ্যের শিক্ষা, পুরসভা এবং সমবায় বিভাগে হওয়া দীর্ঘদিনের নিয়োগ দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির তদন্তে এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ এবং তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিয়েছে রাজ্য সরকার।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো আপস করা হবে না। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী সরকার গত প্রায় চার বছর ধরে পদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের অনুমতি আটকে রেখেছিল। সেই জট কাটিয়ে এখন স্বচ্ছ তদন্তের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, সরকারি ব্যবস্থার অপব্যবহার করে যারা সাধারণ মানুষের হক কেড়ে নিয়েছে, তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো যাতে অনুমতি ছাড়া রাজ্যে তদন্ত করতে না পারে, তার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল তৎকালীন সরকার। বর্তমান বিজেপি সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
অমীমাংসিত মামলায় গতি
শিক্ষা ও পুরসভার মতো বিভাগগুলোতে নিয়োগ সংক্রান্ত যে বিপুল দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেগুলির অমীমাংসিত ফাইল এখন দ্রুত খুলতে চলেছে। প্রশাসনের শীর্ষ মহলের ধারণা, মুখ্যমন্ত্রীর এই অনুমতির ফলে ঝুলে থাকা আইনি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে এবং দোষীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে।
অবৈধ কারখানায় চলবে বুলডোজার
কেবল নিয়োগ দুর্নীতিই নয়, জনসুরক্ষা ও অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সম্প্রতি আগুনে পুড়ে যাওয়া একটি অবৈধ ভবন ভেঙে ফেলার সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই পুলিশ ওই কারখানার দুই মালিককে গ্রেফতার করেছে।
শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশ—টপসিয়া বা মোমিনপুরের মতো এলাকায় যেখানেই অবৈধ কারখানা রয়েছে, অবিলম্বে সেগুলোর বিদ্যুৎ ও জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। প্রয়োজনে সেই সব অবৈধ কাঠামো গুঁড়িয়ে দিতে বুলডোজার ব্যবহার করবে প্রশাসন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই জোড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী একদিকে যেমন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিলেন, তেমনই অন্যদিকে প্রশাসনের রাশ যে তাঁর হাতে শক্ত রয়েছে, তাও বুঝিয়ে দিলেন। আগামী দিনগুলোতে দুর্নীতির তদন্তে আরও বড় কোনো চমক আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।