কয়লা খনিতে বড় ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’! মুখ্য সচিবের নির্দেশে জেলায় জেলায় শুরু হচ্ছে চিরুনি তল্লাশি

রাজ্যে অবৈধ কয়লা খনন ও পাচার রুখতে এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল প্রশাসন। কয়লা খনি এলাকাগুলিতে মাফিয়া রাজ খতম করতে সরাসরি জেলাশাসকদের (DM) ময়দানে নামার নির্দেশ দিলেন মুখ্য সচিব মনোজ পন্থ। একই সঙ্গে কোথায় কোথায় অবৈধ খাদান সচল রয়েছে, তা নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে নবান্নের পক্ষ থেকে।

মুখ্য সচিবের কড়া নির্দেশ

সূত্রের খবর, বিভিন্ন জেলা থেকে কয়লা চুরির একাধিক অভিযোগ আসছিল নবান্নে। বিশেষ করে পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া সংলগ্ন খনি অঞ্চলগুলিতে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে পাচারচক্র সচল থাকার খবরে ক্ষুব্ধ শীর্ষ মহল। বুধবার উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকের পর মুখ্য সচিব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনোভাবেই অবৈধ খনন বরদাস্ত করা হবে না। জেলাশাসকদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে খনিগুলো পরিদর্শন করতে হবে এবং প্রয়োজনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

মাফিয়াদের রুখতে গোপন রিপোর্ট

শুধুমাত্র তল্লাশি নয়, এই পাচারচক্রের নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং কাদের মদতে এই কারবার চলছে, তা নিয়ে একটি ‘সিক্রেট রিপোর্ট’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কারোর যোগসাজশ পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। খনি অঞ্চলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে সিসিটিভি নজরদারি এবং ড্রোন ব্যবহারেরও পরিকল্পনা করছে রাজ্য।

কেন এই বাড়তি তৎপরতা?

অবৈধ খাদানে কাজ করতে গিয়ে প্রায়শই বড়সড় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন শ্রমিকরা। খনি ধসে মৃত্যুর ঘটনাও রাজ্যে নতুন নয়। এছাড়া সরকারি রাজস্বের যে বিপুল ক্ষতি হচ্ছে, তা রুখতেই এই সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত চলাকালীন রাজ্য সরকার নিজেই এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নিয়ে প্রমাণ করতে চাইছে যে, দুর্নীতি দমনে তারা বদ্ধপরিকর।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জেলাশাসকরা তাঁদের রিপোর্ট জমা দেবেন। এরপরই বড়সড় অভিযানে নামতে পারে রাজ্য পুলিশ ও টাস্ক ফোর্স। খনি এলাকার সব খবর সবার আগে পেতে নজর রাখুন ডেইলিয়ান্ট-এর পাতায়।