পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে? উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই সব জল্পনা ওড়াল বাংলাদেশ সরকার!

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে ওপার বাংলায় ছড়ানো উত্তেজনার পারদ এক ধাক্কায় নামিয়ে দিল খোদ বাংলাদেশ সরকার। গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের একাধিক ইসলামিক সংগঠনের তোলা ‘মুসলিম নির্যাতনের’ অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘গুজব’ বলে খারিজ করে দিয়েছেন সে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী ঐক্য জোটসহ বেশ কিছু সংগঠন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে ভারত-বিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ করে। তাদের দাবি ছিল, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর সেখানে মুসলিমরা লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা প্রমাণ তাদের কাছে নেই।

পুরনো ভিডিও দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ছক? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, “আপনাদের কাছে কী প্রমাণ আছে যে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে? আমাদের হাই কমিশন সেখানে আছে এবং আমরা এখনও পর্যন্ত কোনো অত্যাচারের খবর পাইনি।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের নামে অনেক পুরনো ও অপ্রাসঙ্গিক ভিডিও ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত।

কড়া বার্তা প্রশাসনের বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। যেখানে কট্টরপন্থী সংগঠনগুলো ভারত-বিদ্বেষী স্লোগান তুলে রাজপথে নেমেছিল, সেখানে সরকারের এই অবস্থান সেই আগুনে জল ঢেলে দিল। সালাউদ্দিন আহমেদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গ সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রচার করা কাম্য নয়।

এর ফলে একদিকে যেমন দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন থামল, অন্যদিকে স্পষ্ট হয়ে গেল যে সীমান্তের ওপার থেকে আসা অভিযোগগুলো ছিল নিছকই রাজনৈতিক উস্কানি ও প্রচারসর্বস্ব। ওপার বাংলার প্রশাসনের এই ক্লিনচিট পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতির স্থিতিশীলতাকেই পুনরায় প্রমাণিত করল।