১ জুলাই থেকে ইতিহাস হবে ১০০ দিনের কাজ! মোদী সরকারের নতুন ‘১২৫ দিনের গ্যারান্টি’তে আমূল বদল গ্রামীণ ভারতে

ভারতের গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করল কেন্দ্রীয় সরকার। দীর্ঘদিনের পরিচিত ‘মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন’ বা এমজিএনআরইজিএ (MGNREGA) এখন অতীত হতে চলেছে। তার বদলে ১ জুলাই, ২০২৬ থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হচ্ছে ‘বিকাশ ভারত কর্মসংস্থান ও জীবিকা নিশ্চয়তা মিশন (গ্রামীণ)’ বা সংক্ষেপে ভিবি-জি র্যাম জি (VB-GRAMG) আইন।
কী কী বদল আসছে?
কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রক জানিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য কেবল মজুরিভিত্তিক শ্রম নয়, বরং গ্রামগুলিতে স্থায়ী সম্পদ ও পরিকাঠামো তৈরি করা। ভোপালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বড় ঘোষণা করে বলেন, “নতুন আইনের অধীনে প্রতিটি গ্রামীণ পরিবার এখন থেকে বছরে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা পাবে।” উল্লেখ্য, পুরনো আইনে এই সীমা ছিল ১০০ দিন।
বাজেট ও প্রকল্পের পরিধি:
এই মেগা মিশন বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় সরকার ৯৫,০০০ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ করেছে। রাজ্যগুলোর অংশীদারিত্ব মিলিয়ে মোট বার্ষিক ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১.৫১ ট্রিলিয়ন টাকা। এই প্রকল্পের অধীনে কেবল মাটি কাটার কাজ নয়, বরং আধুনিক স্কুল ভবন, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, গ্রামীণ সড়ক, সেতু এবং কৃষিভিত্তিক পরিকাঠামো নির্মাণ করা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG) এবং কৃষক সংগঠনগুলোর (FPO) কর্মক্ষেত্র তৈরির ওপর।
মজুরি ও ক্ষতিপূরণে কড়া নিয়ম:
শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় এবার আরও কঠোর হচ্ছে কেন্দ্র। নতুন নিয়ম অনুযায়ী:
সরাসরি পেমেন্ট: ডিবিটি (DBT)-র মাধ্যমে মজুরি সরাসরি ব্যাংক বা পোস্ট অফিস অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে।
দ্রুত পরিশোধ: কাজ শেষ হওয়ার ৩ দিনের মধ্যে টাকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে, যার সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৫ দিন।
ক্ষতিপূরণ ও ভাতা: নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মজুরি না পেলে শ্রমিকরা ক্ষতিপূরণ পাবেন। এছাড়া, আবেদনের ১৫ দিনের মধ্যে কাজ দিতে ব্যর্থ হলে সরকারকে নিয়ম অনুযায়ী ‘বেকার ভাতা’ প্রদান করতে হবে।
বাস্তবায়নের সময়সীমা:
সরকার স্পষ্ট করেছে যে, আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে পুরনো আইনের অধীনে থাকা সমস্ত অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করতে হবে। রাজ্যগুলোকে এই নতুন ব্যবস্থায় মানিয়ে নেওয়ার জন্য ছয় মাস সময় দেওয়া হলেও, ১ জুলাইয়ের পর থেকে সমস্ত কেন্দ্রীয় তহবিল কেবল ‘ভিবি-জি র্যাম জি’ কাঠামোর অধীনেই বরাদ্দ করা হবে।
প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে ব্যয়ের সীমা ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে, যাতে মাঠকর্মীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘উন্নত ভারত’ বা ‘বিকাশ ভারত’ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।