কেন ৫৭ বছর বয়সেও অবিবাহিত? প্রকাশ্যে এল সেই ‘গোপন’ সত্য!

বাংলার রাজনৈতিক মহাকাশে তিনি এখন সবথেকে উজ্জ্বল ধ্রুবতারা। আজ সকাল ১১টায় পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১-এর পর ২০২৬—পরপর দু’বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিক ময়দানে পরাস্ত করে নিজেকে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মেদিনীপুরের এই ভূমিপুত্র। তবে আজ যখন তিনি সাফল্যের শিখরে, তখন তাঁর রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও।
সবথেকে বড় প্রশ্ন— ৫৭ বছর বয়সেও কেন অবিবাহিত রইলেন শুভেন্দু? কেন পিঁড়িতে বসার বদলে রাজনীতির কণ্টকাকীর্ণ পথকেই বেছে নিলেন তিনি?
হলদিয়ার সেই সভা ও গোপন কথা ফাঁস
ঘটনাটি কয়েক বছর আগের। হলদিয়ায় এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন শুভেন্দু। সেখানেই নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মুখ খুলে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। জনৈক এক ব্যক্তির প্রশ্নের সূত্র ধরে শুভেন্দু বলেছিলেন, “অনেকে আমায় জিজ্ঞেস করেন, শুভেন্দু বাবু আপনার ভাইদের তো বিয়ে হয়ে গেছে, আপনি এখনও অবিবাহিত কেন?”
সেই প্রশ্নের উত্তরে শুভেন্দু যা বলেছিলেন, তাতে উপস্থিত জনতা স্তম্ভিত হয়ে যায়। শুভেন্দু জানান, তিনি একা নন। তাঁর আদর্শ মেদিনীপুরের তিন কিংবদন্তি স্বাধীনতা সংগ্রামী— সতীশ সামন্ত, সুশীল ধারা এবং অজয় মুখোপাধ্যায়। এই তিন দিকপাল নেতাই আজীবন অবিবাহিত থেকে দেশসেবা করে গেছেন। তাঁদের সেই ত্যাগের আদর্শেই অনুপ্রাণিত হয়ে শুভেন্দু স্থির করেন, তিনিও নিজের জীবন মানুষের সেবায় উৎসর্গ করবেন।
বাবা শিশির অধিকারীর আক্ষেপ ও বকুনি
ছেলের এই সিদ্ধান্তে খুশি ছিলেন না তাঁর বাবা, প্রবীণ রাজনীতিক শিশির অধিকারী। এক সাক্ষাৎকারে শিশির বাবু আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “আমি ওকে রাগে অনেক বকাঝকা করেছিলাম। এই সম্মান, খ্যাতি, টাকা কার জন্য? সাধারণ মানুষ তো এটাই চায় যে ছেলের নিজের একটা সংসার থাকুক, একটা পরিবার থাকুক।” একজন বাবা হিসেবে এই আক্ষেপ স্বাভাবিক হলেও, শুভেন্দু ছিলেন নিজের লক্ষ্যে অবিচল।
“অবিবাহিত থাকাটা ইতিবাচক লক্ষণ”
বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর একটি টিভি সাক্ষাৎকারে শুভেন্দু স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ১৯৮৭ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতি করতে করতে তিনি জনগণের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছেন। তাঁর কথায়, “অবিবাহিত থাকাটা আমার কাছে ইতিবাচক। আমি কাজের জন্য অনেক বেশি সময় পাই। আমার পিছনে পিছুটান নেই। বাবা-মা ভালো থাকলেই আমি খুশি। পরিবারের কাউকে রাজনীতিতে এনে ক্ষমতার অপব্যবহার করাটা আমি কুফল মনে করি, তাই আমি এভাবেই ঠিক আছি।”
আজ যখন তিনি বাংলার মসনদে বসছেন, তখন তাঁর এই ত্যাগ এবং ব্রহ্মচর্য পালন নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে অনুগামীদের মধ্যে। বিয়ের পিঁড়ি নয়, বরং বাংলার মানুষের সেবাকেই যে তিনি জীবনের ধ্রুবতারা করেছেন, তা আজ আরও একবার প্রমাণিত।
আপনার কী মনে হয়? শুভেন্দুর এই একক জীবনই কি তাঁর রাজনৈতিক সাফল্যের মূল চাবিকাঠি? কমেন্ট করে আমাদের জানান।