ব্রিগেডে মোদি-শাহের উপস্থিতিতে ইতিহাস! শুভেন্দুর সাথে আজ আর কোন ৪ জন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন?

তিলোত্তমার বুকে আজ এক ঐতিহাসিক ভোরের সূচনা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত হতে চলেছে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এই মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ ও উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। অনুষ্ঠানের গাম্ভীর্য ও গুরুত্ব বাড়িয়ে ব্রিগেডের মঞ্চে উপস্থিত থাকছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন।

সুসজ্জিত ও বিশাল এই মঞ্চে আবহমান বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মঞ্চের কেন্দ্রে রাখা হয়েছে মা দুর্গা ও কালীঘাট মন্দিরের প্রতিকৃতি। সূত্রের খবর, আজকের এই মেগা ইভেন্টে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আরও প্রায় ৫ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। জল্পনা ছড়িয়েছে যে, মন্ত্রিসভার এই প্রাথমিক তালিকায় থাকতে পারে দিলীপ ঘোষের নাম। এ ছাড়াও উত্তরবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব করতে নিশীথ প্রামাণিক এবং বনগাঁ উত্তর বিধানসভার বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়ার নাম নিয়েও জোর চর্চা চলছে। তালিকায় অগ্নিমিত্রা পল এবং উত্তরবঙ্গের আরও এক দাপুটে বিধায়কের নাম থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলার এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাক্ষী থাকতে কলকাতা এখন মিনি ভারতবর্ষে পরিণত হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকেই শহরের এক বিলাসবহুল হোটেলে এসে পৌঁছেছেন ২১টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, একাধিক উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিনিধিরা। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা শহরকে। হোটেল থেকেই তাঁরা সরাসরি ব্রিগেডের শপথ মঞ্চে পৌঁছাবেন।

তবে রাজনীতির হেভিওয়েটদের পাশাপাশি আজকের ব্রিগেডে সবথেকে বেশি নজর কাড়ছে ‘বাঙালিয়ানা’। চিরাচরিত ঘুগনি বা রুটি-তরকারির বদলে আজ ব্রিগেডে ‘ঝালমুড়ি’ ট্রেন্ড। কর্মী-সমর্থকদের আপ্যায়নের জন্য তৈরি হয়েছে সারি সারি ঝালমুড়ির টেন্ট। সঙ্গে রয়েছে বাংলার বিখ্যাত মিষ্টি। গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য খুব স্পষ্ট— আদ্যোপান্ত বাঙালিয়ানা আর লোকজ সংস্কৃতির মেলবন্ধনেই এই রাজ্যাভিষেককে স্মরণীয় করে রাখা। ৫৬ বছর পর ফের পূর্ব মেদিনীপুরের এক নেতার হাত ধরে বাংলার শাসনভার পরিচালিত হতে চলায় আবেগপ্রবণ আপামর মেদিনীপুরবাসীও। সব মিলিয়ে, আজ বিগ্রেড যেন এক নতুন ভোরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।