১৫ মে-র আগেই বড় ধাক্কা? আকাশছোঁয়া হতে পারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম, পকেটে টান আমজনতার!

সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে এবার একধাক্কায় অনেকটা বাড়তে পারে জ্বালানি তেলের দাম। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলোর (OMC) ওপর ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপ কমাতে আগামী ১৫ মে-র মধ্যেই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুধু তেল নয়, রান্নার গ্যাসের দামও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
কেন এই মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা?
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দামের অস্থিরতাই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে জটিলতা দেখা দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের জোগান বারবার ব্যাহত হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার থেকে লাফিয়ে ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে।
এর ফলে দেশের তেল সংস্থাগুলো প্রতি মাসে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বর্তমানে সাধারণ পেট্রোলের ক্ষেত্রে লিটার প্রতি প্রায় ২৪ টাকা করে লোকসান বইতে হচ্ছে সরকার ও সংস্থাগুলোকে। এই বিপুল ঘাটতি সামাল দিতেই এবার খুচরো বাজারে দাম বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্র।
কতটা বাড়তে পারে দাম?
সূত্রের খবর, সরকার সবুজ সংকেত দিলে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসের (১৪.২ কেজি সিলিন্ডার) ক্ষেত্রেও দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তবে ২০২২ সালের পর এই প্রথম জ্বালানির দাম একধাক্কায় এতটা বাড়তে চলেছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর হাল
জ্বালানি সংকট সামাল দিতে ইতিমধ্যেই হিমশিম খাচ্ছে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলো। বাংলাদেশ সরকার তেলের যোগান ঠিক রাখতে রেশন ব্যবস্থা চালু করেছে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান জ্বালানি বাঁচাতে কমিয়ে দিয়েছে কর্মদিবস। দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত দেশও তেলের দাম বেঁধে দিতে বাধ্য হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে ১৫ মে-র আগেই বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।