“জয়ের পরেই রুদ্রনীলের বাড়িতে চাঁদের হাট!”-সৃজিত-কৌশিকদের দেখে কেন ‘সুযোগসন্ধানী’ খোঁচা নেটিজেনদের?

সময় চাকা যে এভাবে ঘুরবে, তা হয়তো মাসকয়েক আগেও অনেকে কল্পনা করতে পারেননি। কিন্তু রাজনীতিতে শেষ কথা বলে জয়। শিবপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়লাভের পর এখন টলিউডের ‘পাওয়ার সেন্টার’ হয়ে উঠেছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। বুধবার টালিগঞ্জের বাড়িতে ফিরতেই নবনির্বাচিত বিধায়ককে শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় জমালেন স্টুডিওপাড়ার বাঘা বাঘা ব্যক্তিত্বরা।
থ্রেট কালচারমুক্ত টলিউডের ডাক বাড়িতে শুভেচ্ছার ঢল নামতেই সেই মুহূর্তগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নিয়েছেন রুদ্রনীল। ছবিতে দেখা যাচ্ছে— সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের মতো টলিউডের প্রথম সারির পরিচালকদের। সঙ্গে ছিলেন পঙ্কজ লাদিয়া, পারমিতা মুন্সি ও দুলাল দে-র মতো পরিচিত মুখেরা। ফুলের তোড়া আর মিষ্টির আবহে রুদ্রনীল বার্তা দিয়েছেন এক নতুন ভোরের। ক্যাপশনে লিখেছেন, “ধন্যবাদ টলিউডের বন্ধুদের। নতুন রূপে সেজে উঠুক ‘থ্রেট কালচারহীন’ টলিউড।”
কটাক্ষের বাণ নেটিজেনদের: “ক্ষমতার টানেই ভিড়?” রুদ্রনীলের এই ‘শুভক্ষণ’ অবশ্য ট্রোলিং থেকে রেহাই পায়নি। নেটিজেনদের একাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন এই আকস্মিক ভিড় নিয়ে। কারও কটাক্ষ, “এতদিন তো কেউ ওঁর পাশে ছিল না, এখন বিধায়ক হয়েছেন বলেই কি এই ঘনিষ্ঠতা?” আবার কেউ লিখেছেন, “ক্ষমতা যেদিকে, টলিউডও সেদিকে। পাল্টি খেতে সময় লাগে না।”
লড়াকু অতীত ও আগামীর স্বপ্ন উল্লেখ্য, ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর থেকে হেরেও দমে যাননি রুদ্রনীল। গত কয়েক বছর ধরে বারবার তিনি অভিযোগ তুলেছেন যে, বিজেপির আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে তাঁকে টলিউডে কাজ দেওয়া হচ্ছে না। ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের দিকে আঙুল তুলে ‘ব্যান কালচার’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন কাজ না পাওয়ার যন্ত্রণায় সংবাদমাধ্যমে বারবার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
এখন রাজ্যে ক্ষমতার পট পরিবর্তন হয়েছে। বিধায়ক হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রুদ্রনীলের কাঁধে নতুন কী দায়িত্ব আসে, সেটাই দেখার। তবে ইন্ডাস্ট্রির বড় একটা অংশ এখন আশাবাদী যে, রুদ্রনীলের হাত ধরেই টলিউডের বহুদিনের জমাট বাঁধা জট ও পক্ষপাতিত্বের অবসান ঘটবে। পর্দার ‘ম্যাকো’ থেকে বিধানসভার বিধায়ক— রুদ্রনীল কি পারবেন টলিউডকে সত্যিকারের স্বাধীন করতে? এখন সেই উত্তরের অপেক্ষায় সিনেমা প্রেমীরা।