বড় খবর: ‘জনগণমন’-র সমান মর্যাদা পাচ্ছে ‘বন্দে মাতরম’! মোদী সরকারের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে তোলপাড় দেশ

বাংলায় দীর্ঘ দেড় দশকের ঘাসফুল শিবিরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর এই ঐতিহাসিক ‘বঙ্গ জয়’-এর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জাতীয় সংহতি ও দেশপ্রেমের আবেগকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’-কে এবার থেকে জাতীয় সংগীত বা ন্যাশনাল অ্যান্থেম ‘জনগণমন’-র সমমর্যাদায় উন্নীত করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল কেন্দ্র।

‘ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’-এ বড় বদল
এতদিন পর্যন্ত ভারতের ‘ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট’ অনুযায়ী জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-কে অসম্মান করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থার সংস্থান ছিল। এবার সেই আইনের ৩ নম্বর সেকশন সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। এর ফলে, এখন থেকে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অনীহা বা অসম্মান প্রদর্শন করলে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে মোটা অঙ্কের জরিমানার পাশাপাশি হতে পারে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল।

বাধ্যতামূলক হচ্ছে ৬টি স্তবকই
চলতি বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক একটি নির্দেশিকা জারি করে জানিয়েছিল, জাতীয় সংগীতের মতোই প্রতিটি সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এবং বাজানো বাধ্যতামূলক। তবে নয়া সিদ্ধান্তের বিশেষত্ব হলো— যদি ‘জনগণমন’ এবং ‘বন্দে মাতরম’ একইসঙ্গে গাওয়া বা বাজানো হয়, তবে অগ্রাধিকার পাবে ‘বন্দে মাতরম’। বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা মূল গানের সবকটি (৬টি) স্তবকই গাইতে হবে এবং গান চলাকালীন শ্রোতাদের উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানো এখন থেকে বাধ্যতামূলক আইনি প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে।

রাজনৈতিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের ঠিক পরেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বন্দে মাতরমের সার্ধশতবর্ষ পালনের যে পরিকল্পনা কেন্দ্র নিয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত তারই চূড়ান্ত রূপ। বিজেপি নেতৃত্ব এই পদক্ষেপকে জাতীয় ঐক্য ও প্রকৃত দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে।

বন্দে মাতরম নিয়ে সংসদের উচ্চকক্ষেও ইতিপূর্বে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। এখন দেখার, সংসদে আইনি সংশোধনের প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং দেশজুড়ে এই নির্দেশিকা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়। তবে আপাতত মোদী সরকারের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ যে দেশজুড়ে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে, তা বলাই বাহুল্য।