খামেনেই খতম, মিশন সাকসেস! ইরান নিয়ে হঠাৎ কেন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ বন্ধের ডাক ট্রাম্পের?

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে এক বিস্ফোরক সিদ্ধান্ত নিল আমেরিকা। ইরানকে ‘শিক্ষা’ দিতে শুরু করা ভয়ংকর সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) আচমকাই সমাপ্ত করার ঘোষণা করল বাইডেন-পরবর্তী ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও সরকারিভাবে জানিয়েছেন, যে উদ্দেশ্য নিয়ে এই অভিযান শুরু হয়েছিল, তা সফল হয়েছে। তাই বর্তমানে এই অপারেশন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন এই আকস্মিক ঘোষণা?
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ইরানের শাসনব্যবস্থা ও আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইর তখত উল্টে দেওয়ার লক্ষ্যে এই অপারেশন শুরু করেছিল আমেরিকা। অভিযানের অংশ হিসেবে ইজরায়েলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইকে নিকেশ করে মার্কিন বাহিনী। এরপর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। কিন্তু হঠাৎ করে অভিযান বন্ধের পেছনে বেশ কিছু কূটনৈতিক ও আইনি মারপ্যাঁচ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা:
১. মার্কিন কংগ্রেসের চাপ: আমেরিকার ‘ওয়ার পাওয়ার অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, কোনো যুদ্ধ শুরুর ৬০ দিনের মধ্যে সরকারকে কংগ্রেসের কাছে এর কারণ ব্যাখ্যা করতে হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর এই ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য প্রবল চাপ তৈরি হয়েছিল। যদিও রুবিও জানিয়েছেন তিনি এই আইনের বিরোধী, তবুও আইনি জটিলতা এড়াতেই এই পিছু হঠা বলে মনে করা হচ্ছে।
২. ভোটের অংক: চলতি বছরের শেষ দিকে আমেরিকায় মিড-টার্ম ইলেকশন। যুদ্ধের খরচ এবং তেলের দাম বৃদ্ধি ভোটারদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত ইরান ইস্যুকে স্তিমিত রাখতে চাইছে।
ট্রাম্পের গলায় শান্তির সুর
বিদেশ সচিব রুবিওর ঘোষণার কিছু পরেই সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে তিনি লেখেন, “ইরানের মানুষ খুবই ভালো। আমি তাঁদের মারতে চাই না।” ট্রাম্পের এই বার্তার পর জল্পনা শুরু হয়েছে যে, আমেরিকা এবার সরাসরি যুদ্ধের বদলে আলোচনার টেবিলে ইরানকে বশ করতে চাইছে।
যদিও হোয়াইট হাউস শান্তির কথা বলছে, তবে রুবিও সাফ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বেগতিক দেখলে বা ইরানের পক্ষ থেকে প্ররোচনা এলে আবারও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না আমেরিকা। আপাতত ড্রোন ও মিসাইল গর্জন থামিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে এক অস্থির শান্তির ছায়া নেমেছে। এর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতে কতটা সুদূরপ্রসারী হয়, সেটাই এখন দেখার।